মাহবুব রোকন।। প্রতীক রাদ্দের পর কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী। তবে প্রথম দিনেই কয়েকটি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। দিনভর তিনি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে প্রচারণা চালান। উল্লেখ্য, শাপলাপুর ইউনিয়নটি জামায়াত-অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একই দিনে সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে প্রচারণা শুরু করেন। তার পিতা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করতেন এবং নিজেও যেখানে শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন, সেই মাতারবাড়ি আজিজিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে মাতারবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে তিনি কালারমার ছড়া ইউনিয়নেও প্রচারণায় অংশ নেন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক প্রথমে স্বজনদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।
তবে প্রথম দিনের প্রচারণায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল করিম এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী এস এম রুকুনুজ্জামান খানকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহেশখালীজুড়ে টানা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থানে পৃথক বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন। প্রচারণায় প্রার্থীদের পক্ষে নারী কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি কুতুবদিয়া উপজেলাতেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের দিন বুধবার (২১ জানুয়ারি) মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল ও মাইকিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এর আগে কক্সবাজার-২ আসনে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
