সোনাদিয়ার কটেজ থেকে নারী পর্যটক উদ্ধার, দুই যুবক আটক, মূলহোতা পলাতক
বিশেষ প্রতিবেদক।। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে গিয়ে বন্ধুদের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠা এক নারী পর্যটককে একটি কটেজ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন যুবক পুলিশের অভিযানের সময় নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে সোনাদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাড়ায় অবস্থিত একটি কটেজে ওই নারীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কটেজটি স্থানীয়ভাবে ‘ক্যাম্পফায়ার রিসোর্ট’ নামে পরিচিত। এটি সোনাদিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য নাগু মেম্বারের ছেলে রাকিবের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে ১ জানুয়ারি দুপুরে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। পরে পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে বিষয়টি মহেশখালী থানা পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, চৌকিদার ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ওই কটেজ থেকে নারীকে উদ্ধার করে।
এ সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার লাইটহাউজ এলাকার আবদু ছফুরের ছেলে মো. হৃদয় (২২) এবং মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মো. আকতার হামিদ আকাশ (২৪)-কে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় মহেশখালীর বড় ডেইল এলাকার এক সাবেক চেয়ারম্যানের পুত্রের নেতৃত্বেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে পুলিশের অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান।
উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী লালমনিরহাটের ওই নারী ( সঙ্গত কারণে বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি ) স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেন, তাকে বলপূর্বক মাদক সেবনে বাধ্য করে নিপীড়ন করা হয়।
ঘটনার পর কটেজ মালিকের পক্ষ থেকে করা কয়েকজন পর্যটকের ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে বলা হয়, গতকাল (১ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে ওই তরুণীর সাথে তার সঙ্গে যাওয়া তিন বন্ধুর বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তিনি সোনাদিয়া ত্যাগ করতে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। কটেজ মালিক দাবি করেন, তিনি অন্য পর্যটকদের সঙ্গে ওই নারীকে কক্সবাজার শহরে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তরুণী তাতে সম্মত হননি।
সোনাদিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য একরাম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চৌকিদার পাঠিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নারীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের আটক করা হয়। উদ্ধার ও আটকে ঘটিভাঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রিমনও ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটক দুই যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ওই নারী তিন বন্ধুর সঙ্গে ৩১ ডিসেম্বর সোনাদিয়া যান। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও চৌকিদারদের সহায়তায় অভিযান চালায়। পরে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাদের ঘটিভাঙ্গা ঘাটে নিয়ে আসার সময় এক যুবক বোট থেকে নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।
ওসি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী নারী মামলা করতে চাইলে থানায় মামলা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সোনাদিয়া দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সোনাদিয়ায় কার্যকর কোনো প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং দ্বীপে গড়ে ওঠা কটেজগুলো অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
