ধলঘাটায় দাদুল মেম্বারের বর্বরতা: নিরাপত্তাকর্মীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার


মাতারবাড়ি প্রতিনিধি।।
মহেশখালীর কালারমার ছড়া এলাকায় এসপিএম প্রকল্পের গ্যাস লাইনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে অপহরণ করে ৩-৪ ঘণ্টা আটকে রেখে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ আহত ইমরান নাজিরকে (৩০) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার উত্তর নলবিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমরান নাজির ওই এলাকার মৃত মোজাহের আহমদের পুত্র এবং কালারমার ছড়ায় নির্মাণাধীন এসপিএম প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র ও আহতের স্বজনরা জানান, গতকাল ধলঘাটা এলাকার ফজল কাদের নামের এক ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ইমরান নাজির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন- এমন সন্দেহে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় একটি পক্ষ। এর জেরে রাতে ধলঘাটা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাদুলের নির্দেশে ও গ্রেপ্তারকৃত ফজল কাদেরের ভাইদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক ইমরানকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাত-পা বেঁধে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এসময় হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

আহত ইমরান নাজিরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ নির্দোষ একজন মানুষকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে মহেশখালী থানার পুলিশ জানায়, একটি মামলার ওয়ারেন্টের আসামিকে ধরাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, একজন নিরাপত্তাকর্মীর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।