স্বেচ্ছায় দখল না ছাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনগত পদক্ষেপ; পুলিশ ও আনসারের সহায়তায় পুনরুদ্ধার
আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফকিরখালী এলাকার মোস্তাক আহমদ তাঁর পৈত্রিক ও স্বত্বীয় জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে বদন আলী গংদের বিবাদী করে গত বছরের ৬ মে মহেশখালী সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে মহেশখালী সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন গত ১২ মার্চ বাদীর অনুকূলে এক রায় (আদেশ নং-০৮) প্রদান করেন।
উক্ত আদেশে আদালত বিবাদী পক্ষকে উচ্ছেদ করে নালিশী জমি বাদীর অনুকূলে ‘খাস দখল’ প্রদানের ডিক্রি জারি করেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদী পক্ষ আদেশের দিন হতে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আপোসে সম্পত্তির দখল বাদীর হাতে অর্পণ করবেন। অন্যথায় বাদী আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
আদালতের নির্দেশনা ও নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং একজন এসআইসহ ১০ জন কনস্টেবলের এক দিনের বিশেষ বেতন-ভাতা নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে গত ৮ মার্চ সোনালী ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় জমা প্রদান করেন বাদী মোস্তাক আহমদ। বিবাদী পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি হস্তান্তর না করায় আদালতের পরোয়ানা মূলে গতকাল ১২ এপ্রিল (রবিবার) সকালে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ চলা এই অভিযানের মাধ্যমে জমির দখল প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার বলেন, হোয়ানকের ফকিরখালী এলাকার জনৈক মোস্তাক আহমদ তাঁর স্বত্বীয় জমি দখলমুক্ত করার জন্য আদালতে মামলা করেছিলেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং ডিক্রি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। আদালতের সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মূলে আইনগত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জমিটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
