ভুক্তভোগীর দাবি, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে সরকার কর্তৃক এস.টি মামলার মাধ্যমে মোট ১৫ জনকে ১৫০ একর জমি লীজ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি চাষযোগ্য করে লবণ ও চিংড়ী চাষ শুরু করেন এবং নিয়মিত খাজনা প্রদান করেন। তবে ২০১২ সালের পর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাজনা গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট জমির কিছু অংশ বনাঞ্চল ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট তাদের শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও এ আদেশ বহাল থাকে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২ মার্চ হাইকোর্ট পুনরায় ছয় মাসের জন্য একই নির্দেশনা প্রদান করেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও নামধারী ব্যক্তিদের কারণে ওই আদেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং লবণ উত্তোলন ও চিংড়ী চাষে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলার জড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে ওই জমির ওপর নির্ভর করে প্রায় ৫০০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। এ অবস্থায় লীজগ্রহীতারা আশঙ্কা করছেন, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।
এ বিষয়ে হাজী মোস্তাক আহমদ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে এ ধরনের হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মহেশখালী রেঞ্জ অফিসার আইয়ুব বলেন, আমার জানামতে মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকায় যেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নাই, লীজও বাতিল। তাই অভিযান আইনগতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।
তারপরও কারো নিজের মালিকানাধীন জমির স্বত্ব প্রমান দিতে পারলে আইনগতভাবে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রীটের পক্ষের এডভোকেট হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন , রীট পিটিশন নং ৫৩৬৫/২০১৩-এর প্রেক্ষিতে ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট ভুক্তভোগী মোস্তাক আহমদকে কোনো প্রকার হয়রানি না করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আরও বলেন, মহামান্য আদালতের এই নির্দেশ যথাযথভাবে আমলে নিয়ে ভুক্তভোগীকে প্রশাসনিক হয়রানি থেকে মুক্ত রাখবেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
