সোনাদিয়ায় নব্য রাজনীতিবিদ, পুরাতন রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক মিলেমিশে ব্যবসা করছে!


নিজস্ব প্রতিবেদক।। সোনাদিয়ায় নব্য রাজনীতিবিদ, পুরাতন রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক মিলেমিশে ব্যবসা করছে ব্যবসা করছে বলে দাবি করেছেন মহেশখালীর সন্তান ও একটিভিস্ট রুহুল আমিন। তাছাড়া মহেশখালীতে আরও বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন তিনি। আজ মহেশখালীতে এক মতবিনিময় সভায় এলাকার এমপি ও বিশিষ্টজনদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আমাদের পাঠদের জন্য নিচে তার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

"আমি একটা গোপন সূত্রের খবর পেয়েছি, ইতিমধ্যে নাকি চার হাজার কোটি টাকা বাজেট হয়েছে সব বাঁধ কেটে দিবে। সেখানে নতুনভাবে 'প্যারাবন' সৃষ্টির জন্য সরকার চেষ্টা করতেছে। এটা আমাদের এমপি সাহেব আরও ভালো জানবেন। আমার যতটুকু মনে হয় এমপি সাহেব আমাকে বলেছেন উনি এ মুহূর্তে এসে ভালো কিছু করতে চান। সেই ভালো কিছু তো হোক আমাদের পাহাড়গুলো রক্ষা পাক, আমাদের প্যারা বন রক্ষা পাক।

সোনারদিয়ার এই যে ঝাউ বাগান, সরকারি টাকা খরচ করে ঝাউ বাগানগুলো লাগাইছে, এগুলো কি কোন ব্যক্তি লাগাইছে? নব্য রাজনীতিবিদ, পুরাতন রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক সমাজ মিলেমিশে বাইর থেকে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীদের নিয়ে এসে সেখানে দুইতলা, তিনতলা বিশিষ্ট কটোজ নির্মাণ করে ব্যবসা করতেছে। এটা কি কারোর বাপ-দাদার সম্পত্তি? আপনারা সেখানে ব্যবসা করবেন? এটার বিরুদ্ধে আপনি আশা করি ব্যবস্থা নিবেন।

আমাদের মহেশখালী চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখেন তো। কিছুদিন আগে সরকার পতন হওয়ার পরে রোগীরা পানি খাওয়ার জন্য সুপেয় পানি নেই। মানে নিরাপদ পানি নাই আমাদের হাসপাতালে। আমি যখন ইউএনও স্যারকে বলি, স্যার স্রেফ একটা আপনি টিউবওয়েল দেন। সে একটা টিউবওয়েলের ব্যবস্থা এখনও করতে পারেন নাই।

আমাদের রোগীরা গেলে একটু কাটাছেড়া হলে, কক্সবাজার চলে যান, রেফার করে দেই। আগে তো এনজিওর টাকা দিয়ে সেখানে গর্ভবতী মহিলাদের অপারেশন হতো, সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি রোগীদের নেওয়ার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্স, সেই অ্যাম্বুলেন্স মাসের পর মাস পড়ে আছে। এ সচেতন নাগরিকদের কারোর দুই লাইন লেখার ক্যাপাসিটি ফেসবুকে থাকে না। নেতারা গুসা (রাগ) হবে এবং তাদের থেকে তারা ভাগ বাটোয়ারা পায়, তারা রাগ করবে। এটি জন ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য তারা সমষ্টিগত স্বার্থের কথা বলে না। আমার কথা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে যারা বেইমানি করবে তারা নেতা হওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখে না।

যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকবে এখানে চিল্লাইয়া যাবো। আমি মাঠে ঘাম দিয়ে দশ বছর সামাজিক কাজকর্মের মধ্য দিয়ে আজকে এই জায়গায় এসেছি। এখানে সত্যের জন্য লড়াইয়ের জন্য আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়েছি। আপনি দেখেন বদরখালী সেতুর টোল ইভেন আজ থেকে অনেক বছর আগে শেষ হয়েছে। সালাউদ্দিন সাহেবের ব্যানার টাঙাইছিল ফজলুল আজিম বিপ্লব হওয়ার পরে, এখন আমাদের এমপি মহোদয়ের ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙাইয়া এটা জায়েজ করে ফেলতেছে। কেন বদরখালী টোলের আরও কতদিন বদরখালী সেতুর টোল নিলে সেতুর টাকা উঠবে? এই প্রশ্ন আমি এমপি সাহেবের কাছে রাখতে চাই। এই টোল বন্ধ করতে হবে।

এবং আমাদের আপনারা জানেন জমি অধিগ্রহণের কারণে ধলঘাটা মাতাবাড়ির অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছে। শুধু হয়তো নয়-ছয় করে নেতারা অনেকে টাকা পাইছে আরও টাকা পাইছে, এগুলো তাদের এখন খাওয়া শেষ। সবাই তাদের জীবিকা হারিয়ে পথে পথে বসেছে। তারা আবার পারাপারের জন্য নাকি টোল দিতে হবে। ঘরও ইতিমধ্যে টোল আদায় করার জন্য একটা ঘর বানাইয়া রাখছে। যদি সেখানে টোল আদায় করে সড়ক বিভাগ, মহেশখালীর আপামর নাগরিকদের নিয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত সে টোল বন্ধ করার জন্য আমরা লড়ে যাবো।

আপনি দেখেন প্রতিটি ইউনিয়নে ঢোকার সময় সিএনজি ঢোকার সময় সড়কের প্রতিটি স্টেশনে টাকা দিতে হয়। মহেশখালীটা শুধু টমটম এবং রিকশা ঢোকার নিয়ম আছে জেটির ভিতরে। এখন আমি কক্সবাজার থেকে আসতেছি স্টুডেন্ট পড়াইয়া, দেখবেন ত্রিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশটা গাড়ি। মানুষ হাঁটার মতো জায়গা নাই। এটার একটা নিয়মের মধ্যে আসতে হবে কয়টা গাড়ি জেটির ভিতরে থাকবে এটা ঠিক করতে হবে।

আমার পাহাড়গুলো রক্ষা করতে হবে। বনের বরোজের নামে, মাটি ভরাট করার নামে দিনের পর দিন যেভাবে সেখানে পাহাড় কর্তন করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে পাহাড়ি দ্বীপের নাম থাকবে কাজে থাকবে না। এসপিএম প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে কালারমারছড়ার অর্ধেক পাহাড় শেষ হয়ে গেছে। এটার সুরাহা চাই। এসপিএম প্রকল্প থেকে যে খালিগুলো বের হয় বিষাক্ত পানি, সে পানির কারণে মানুষের কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইভেন আপনারা জানেন না এটা গোপন রাখা হইছে, কয়লা বিদ্যুৎ থেকে যে পানিগুলো গরম করে বের করা হয়, এই পানির গরমে কিন্তু একজন জেলে মারা গিয়েছিল। আপনারা কেউ সেটা জানেন না, এটা আমরা জানি। এই পানির গরমে কিন্তু আমাদের যে মা মাছগুলো আছে এগুলো পোনা দেয় না। সাগরের মধ্যে অনেক দূরে চলে গিয়েছে।

ভবিষ্যতে আমি এমপি মহোদয়কে বলবো, যদি আমাদের মহেশখালী এটা যদি গভীর সমুদ্র বন্দর করার জন্য উপযুক্ত জায়গা হয় কোনো আপত্তি নাই। কয়লা বিদ্যুতের জন্য যে জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে চোদ্দশ একর আরও পরবর্তীতে সাতশ একর, এখানে আপনি সমুদ্র বন্দর করেন। কয়লা বিদ্যুৎ দরকার নাই। পৃথিবীতে সকল উন্নত রাষ্ট্র এই কয়লা বিদ্যুৎ থেকে সরে এসেছে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একমাত্র দায়ী এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমরা আনছি কারা? পৃথিবীতে যে দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে ছয় নম্বর অবস্থানে করছে, সে দেশের নেতারা ভাগ বাটোয়ারা করার জন্য মহেশখালীতে নিয়ে আসছে আমাদের বিষাক্ত হাব এই কয়লা বিদ্যুৎ। এটা বন্ধ করে দেন। এটা বন্ধ করলে হয়তো টাকা বেশি লস হবে। সেই টাকা জাতীয়ভাবে যদি বাংলাদেশের নাগরিকরা বহন করে এটা একদিনও কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না। কিন্তু একটা মানুষের মৃত্যু তো আমরা পুরো জাতি বহন করতে পারবো না। এই কয়লা বিদ্যুৎ বন্ধ করে সমুদ্র বন্দর করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"