মহেশখালীতে শিশুদের হাম-রুবেলা রুখতে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা; ১৯ কেন্দ্রে সুরক্ষা বলয়


মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির।। সারা দেশে হামের (Measles) ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহেশখালীতে শুরু হয়েছে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি। আজ ৫ এপ্রিল, রবিবার সকাল ১০টায় বড় মহেশখালীর জাগিরাঘোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।

উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও নিরোগ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো শিশু যেন এই জীবনরক্ষাকারী টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।

টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ ও টিকা প্রদানের নির্দেশ দেন। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জানানো হয়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় একযোগে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে মোট ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বড় মহেশখালী ইউনিয়নে ৩টি, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে ৩টি, মাতারবাড়ি ইউনিয়নে ৩টি, শাপলাপুর ইউনিয়নে ৩টি, কুতুবজোম ইউনিয়নে ৩টি এবং মহেশখালী পৌরসভায় ৩টি কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সকাল থেকেই এসব কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, মহেশখালীতে এই বয়সী মোট ৫৫ হাজার ৩৮০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনে ৪ হাজার ২৩০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্য রয়েছে এবং এই কার্যক্রম আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

হামের ভয়াবহতা উল্লেখ করে ডা. মাহফুজুল হক সব খবরকে বলেন, "হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও জীবনঘাতী রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। তাই এই সংক্রমণ চক্র ভাঙতে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই।" তিনি অভিভাবকদের সচেতন করে বলেন, যদি কোনো শিশুর তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে র‍্যাশের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা বা ‘আইসোলেশনে’ রাখতে হবে।

এদিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শা.আ.ম এনায়েত উল্লাহ বাবুল তার পরিষদ ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি ইউনিয়নবাসীকে নিজ নিজ শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসার জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, এর আগে করোনা অতিমারি মোকাবিলায় মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাক কাজে লাগিয়ে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবারও হাম-রুবেলা প্রতিরোধে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বদ্ধপরিকর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।