সী-ট্রাক ইজারা দেওয়া যাবে না, বর্ষার আগেই বেড়িবাঁধ মেরামতের দাবি এমপি আলমগীর ফরিদের


প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে চলাচলকারী সী-ট্রাক কোনোভাবেই ইজারা না দেওয়া এবং বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জিও ব্যাগ দিয়ে দ্বীপ জনপদ মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমপি আলমগীর ফরিদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও যাতায়াত সুবিধার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটের সী-ট্রাক এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগের বিষয়। এটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম। তাই কোনোভাবেই এই সী-ট্রাক ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো যাবে না বা ব্যক্তি বিশেষের হাতে দেওয়া যাবে না। জনগণের স্বার্থে এটি সরকারি সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতে হবে।

উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হতে আর বেশি সময় নেই। আসন্ন বর্ষায় লোনা পানির হাত থেকে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর বাসিন্দাদের রক্ষা করতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত জিও ব্যাগ দিয়ে জরুরি মেরামত করতে হবে। এটি এখন উপকূলবাসীর অস্তিত্ব রক্ষার দাবি।

নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে এমপি ফরিদ বলেন, সাগর ও পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীরা আস্তানা গেড়েছে। সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরাতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত ‘যৌথ অভিযান’ পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে। পাশাপাশি মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেল ব্যবহার করে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ চোরাচালান বন্ধে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করার জোর তাগিদ দেন তিনি। বিশেষ করে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এমপি আলমগীর ফরিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাজাহান চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার এ এম এন মোঃ সাজেদুর রহমান, র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী এবং ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন আলমগীরসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।