সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকালে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়ার পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন এবং ঈদের পর বড় ধরনের অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বুধবারের এই অভিযানকে তাঁর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, কুতুবজোমের সোনাদিয়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে প্যারাবন নিধন ও পরিবেশ বিনষ্ট করে ঘের নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বন বিভাগ, মহেশখালী থানা পুলিশ, আনসার ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত একটি বিশাল এক্সকেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) ঘটনাস্থলেই অকেজো করে দেওয়া হয়। এছাড়া এক্সকেভেটর পরিবহনকারী একটি জলযান জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট দুই চালককে আটক করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান ও মামলা প্রসঙ্গে বন বিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আয়ুব আলী জানান, অভিযানের সময় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগ বাদী হয়ে একটি শক্তিশালী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “দৈনিক কক্সবাজার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পরিবেশ অধিদপ্তর আগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, মূলত সেই প্রভাবশালীরাই এবারও মামলার প্রধান আসামি হবেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সময় সুবিধা নিতে চাওয়া কিছু নতুন মুখকেও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” মামলাটি নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তবে সোনাদিয়ায় প্রশাসনের এ অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামাল বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, প্রশাসনকে তিনি জানিয়েছিলেন অভিযান হলে তার কোনো আপত্তি নেই, প্রয়োজনে সহযোগীতা করবেন- তবে অভিযানে প্রশাসন তার সহযোগীতা চায়নি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। বন বিভাগের মামলাটি পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদের এই কঠোর অবস্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও বন খেকো ও ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে।
