মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভায় আরও ৫০টি সুপেয় পানির প্রকল্প করবেন ফয়সাল আমিন
জানা গেছে, সম্প্রতি মহেশখালী পৌরসভার দক্ষিণ ঘোনাপাড়া এলাকায় জনকল্যাণমূলক এই ‘সুপেয় পানি প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফয়সাল আমিনের বাবা আবু ছিদ্দিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুরব্বি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক পানিবিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় মহেশখালী পৌরসভার বেশ কিছু স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মিঠা পানির তীব্র সংকট রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ ঘোনাপাড়া এলাকার মানুষকে পানীয় জলের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে নারী ও শিশুদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হতো। দিনে একাধিকবার দূর পথ হেঁটে পানি আনতে গিয়ে তাদের সময় ও শ্রমের পাশাপাশি স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হতো।
এলাকাবাসীর এই দুর্দশা লাঘবে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন ফয়সাল আমিন। তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ওভারহেড পানির ট্যাংক ও একাধিক পানির কল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ফয়সাল আমিন এক বার্তায় বলেন, "মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম হলো নিরাপদ পানি। আমার এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানির কষ্ট পাচ্ছিল, যা আমাকে ব্যথিত করত। আল্লাহর রহমতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ২৫০টি পরিবারের পানির কষ্ট দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে থাকব।"
স্থানীয়রা ফয়সাল আমিনের এই উদ্যোগকে আগামীতে পৌরসভা পরিচালনায় তিনি কী ধরনের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন, তার একটি বাস্তব নমুনা হিসেবে দেখছেন।
বহু বছর পর নির্ভরযোগ্য পানির উৎস পাওয়ায় গ্রামবাসী এখন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, আগে প্রতিদিন বেশ দূর থেকে পানি আনতে গিয়ে তাদের ঘরের কাজ ও শিশুদের দেখাশোনা ব্যাহত হতো, এখন সেই ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।
এক বয়স্ক বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "আমরা জীবনে অনেক কষ্ট করে পানি তুলেছি, এখন এই বয়সে এসে ঘরের কাছেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা পেয়েছি, এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!" তরুণরাও মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন কাজ সমাজের অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পর্যটনসহ নানা কারণে কক্সবাজার উপকূলজুড়ে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এ অবস্থায় দক্ষিণ ঘোনাপাড়ার এই প্রকল্পটি বড় কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় কমিউনিটি–নেতৃত্বাধীন এক ধরনের ‘মাইক্রো মডেল’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
মহেশখালীর মতো উপকূলীয় অঞ্চলে, যেখানে সুপেয় পানির জন্য এখনো অনেক মানুষকে দৈনন্দিন সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে ফয়সাল আমিনের ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প স্থানীয় উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
