স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে মহেশখালী থানা পুলিশ, স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ


দুই মাসে
নেই খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি, ১৬১ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

আব্দুল করিম।। কক্সবাজারের মহেশখালী থানা এলাকায় গত দুই মাসে ডাকাতি বা দস্যুতা, খুন ও ধর্ষণের মতো বড় ধরনের কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটেনি বা এমন কোনো মামলা রেকর্ড করতে হয়নি থানায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধির কারণেই এই দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক তৎপরতায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত মহেশখালীতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

জানা যায়, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশব্যাপী মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, মব কালচার ও সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে মে মাসের শুরু থেকে দেশব্যাপী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার আলোকে এবং কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মহেশখালী থানা পুলিশ অপরাধ দমনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে বলে জানা যায়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান জানান, গত ১০ মার্চ (২০২৬) তিনি এই থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। যার ফলে মহেশখালীতে এখন বড় ধরনের কোনো সহিংস অপরাধ নেই। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মহেশখালী থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক অভিযানে ২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে ৮০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও ৬৫২ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। গত দুই মাসে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ সর্বমোট ১৬১ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে বড় অপরাধ কমলেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যে কিছু মারামারির ঘটনা ঘটছে বলে স্বীকার করেন ওসি। এছাড়া সম্প্রতি এলাকায় অল্প বয়সে পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের একাধিক অভিযোগ থানায় এসেছে এবং বিষয়গুলো পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

আসন্ন ঈদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছক:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহেশখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিশ্ছিদ্র করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে শাপলাপুর ও ছোট মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকা এবং বড় মহেশখালী ও কালারমার ছড়ার মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।

এর পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধে এবং মাদক নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে থানা পুলিশ।

এদিকে পুলিশের এমন দৃশ্যমান তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানান, নিয়মিত টহল ও সাঁড়াশি অভিযানের কারণে আগের তুলনায় মহেশখালীতে অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে। প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকলে মহেশখালী একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জনপদে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।