মহেশখালীতে বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটের ঘটনায় প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার


বার্তা পরিবেশক।।
মহেশখালীর কুতুবজোমে বসতবাড়িতে ঢুকে নারী ও শিশুদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, লুটতরাজ এবং শ্লীলতাহানির ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মূল হোতা। গ্রেফতার হওয়া সাহেদ মোহাম্মদ মামুন ওই মামলার ১ নম্বর এবং ওয়ারেন্টভুক্ত প্রধান আসামি। তাকে গ্রেফতারের পর স্বস্তি ফিরছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকায়।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে সীমানা বিরোধের জেরে এক পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে চালানো নৃশংস হামলার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সাহেদ মোহাম্মদ মামুন (২৬) হোয়ানক ইউনিয়নের জোয়ারকাটা এলাকার নুরুল হকের পুত্র। সে ওই ঘটনায় ভাড়াটিয়া ‘লাঠিয়াল’ হিসেবে কাজ করেছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ নুরুল হকের বসতবাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। প্রতিবেশী ৫ নম্বর আসামি হোসনে আরা বেগমের সাথে সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মামুনসহ ৮-১০ জন সন্ত্রাসী দা, কিরিচ, লোহার রড এবং লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।

হামলার সময় বাড়িতে বেড়াতে আসা নুরুল হকের মেয়ে রেহেনা বেগমকে বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। তাকে বাঁচাতে ভাতিজা শাহজাহান, সিরাজুল ইসলাম এবং ফাতেমা বেগম এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সিরাজুল ইসলামকে খুনের উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন। হামলায় রেহেনা বেগম এবং ফাতেমা বেগমের হাড় ভেঙে যায় এবং গুরুতর জখম হন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

হামলাকারীরা কেবল মারধরেই ক্ষান্ত হয়নি, নুরুল হকের ঘর থেকে ২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। যাওয়ার সময় বাড়িটি দখল করার ও পরিবারের সদস্যদের খুন করার হুমকি দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় নুরুল হক বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মামুনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

মহেশখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই অশুভ সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।