আলী প্রয়াস
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে অমিত চৌধুরী ছিলেন এক নিরলস কবি, সম্পাদক, সাহিত্যসেবী ও মানবিক মানুষ। প্রচারের আলোয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে সাহিত্যকে ভালোবেসে, সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন করে এবং নতুন লেখকদের জন্য একটি সৃজনশীল পরিসর তৈরি করাকেই তিনি জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কবিতা, ছড়া, লিরিক, প্রবন্ধচর্চা এবং দীর্ঘকালীন সম্পাদনাকর্ম কক্সবাজার ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষাজীবন
অমিত চৌধুরীর জন্ম ১৪ এপ্রিল ১৯৫২ সালে কক্সবাজার পৌরসভায়। তাঁর পিতা রমেশ চন্দ্র দে। তাঁদের পারিবারিক আদি নিবাস সীতাকুণ্ডে; ১৯৪৩ সালের শুরুতে তাঁর পিতা কক্সবাজারে এসে বসতি স্থাপন করেন। মা-বাবার তৃতীয় সন্তান অমিত চৌধুরী। তাঁর বড় ভাই পূর্ণচন্দ্র দে এবং দ্বিতীয় ভাই সুনীল কৃষ্ণ দে—যিনি একসময় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন। পরিবারের পরবর্তী সন্তান সতীন্দ্রনাথ দে।
বন্ধুমহলে তিনি ছিলেন সবার পরিচিত ‘সন্তোষ দা’, আর সাহিত্যিক মহলে তাঁর পরিচিতি অমিত চৌধুরী নামে। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের দুটি দিক ধরা পড়ে—একদিকে আপনজনদের কাছে সহজ, আন্তরিক ও স্নেহশীল মানুষ; অন্যদিকে সাহিত্যাঙ্গনে নিবেদিতপ্রাণ কবি ও সম্পাদক।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ক্রমে তাঁর জীবনের প্রধান সাধনায় পরিণত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো
অমিত চৌধুরীর জীবনেও মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি গভীর ও স্মরণীয় অধ্যায়। তিনি তখন চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজ—বর্তমান সরকারি বিএড কলেজ, চট্টগ্রাম—এ অধ্যয়নরত। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কক্সবাজার দখল করে নেয়। সেই সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে বার্মার আরাকানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন।
যুদ্ধ, দেশত্যাগ, অনিশ্চয়তা ও শরণার্থীজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর প্রজন্মের মানুষের জীবনে যে গভীর ছাপ রেখেছিল, অমিত চৌধুরীর পরবর্তী সাহিত্যচর্চাতেও দেশ, মানুষ, ইতিহাস, যুদ্ধ, সংকট ও মানবিকতার নানা অনুষঙ্গ ফিরে এসেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে আবার লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। একই সময় থেকে তাঁর সাহিত্যচর্চাও বিস্তৃত হতে থাকে।
‘বৈজয়ন্তী’ থেকে ‘মূল্যায়ন’
অমিত চৌধুরীর সম্পাদনাজীবনের সূচনা ছাত্রজীবনেই। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি সম্পাদনা করেন ‘বৈজয়ন্তী’। এর মাত্র কয়েক বছর পর ১৯৭৬ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সৃজনশীল সাহিত্যপত্রিকা ‘মূল্যায়ন’।
‘মূল্যায়ন’ শুধু একটি সাহিত্যপত্রিকা ছিল না; দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে এটি ছিল অমিত চৌধুরীর সাহিত্যসাধনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। ১৯৭৬ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অন্যের সাহিত্যকর্ম, সাহিত্যিকের জীবন ও অবদান এবং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়কে সামনে আনার ক্ষেত্রে তিনি ‘মূল্যায়ন’-কে একটি বিশেষ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
সম্পাদক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল বিষয় নির্বাচনের ব্যাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, আবুল ফজল, শামসুর রাহমান, সুফী জুলফিকার হায়দার, শিবনারায়ণ রায়, বুলবুল চৌধুরী, ভাষা মতিন, সৈয়দ শামসুল হক, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, শহীদ সাবের, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নওশাদ নূরীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তিনি ‘মূল্যায়ন’-এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত হয়েছে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মতো মানবিক সংকট এবং যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও বিশেষ সংখ্যা। এ ধরনের বিশেষ সংখ্যার সংখ্যা ছিল ৩৫টি।
এই বিশেষ সংখ্যাগুলোতে শুধু ব্যক্তির সাহিত্যকর্ম বা জীবন নয়, সময় ও সমাজের নানা প্রশ্নও উঠে এসেছে। ফলে ‘মূল্যায়ন’ হয়ে উঠেছিল ব্যক্তি, সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি, মানবিক সংকট ও সমকালীন সমাজবাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
অমিত চৌধুরীর সম্পাদনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নবীন লেখকদের জন্য জায়গা তৈরি করা। তিনি শুধু প্রতিষ্ঠিতদের নিয়ে কাজ করেননি; নতুন লেখকদের লেখার সুযোগ দিয়েছেন, তাঁদের উৎসাহিত করেছেন এবং সাহিত্যিক পরিসরে পরিচিত করে তুলেছেন। এ কারণে তাঁর সম্পাদনাকর্মের মূল্য শুধু প্রকাশিত সংখ্যাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর মাধ্যমে যে লেখক ও সাহিত্যচর্চার পরিসর তৈরি হয়েছিল, সেটিও তাঁর স্থায়ী অবদানের অংশ।
পত্রালাপের বিস্তৃত জগৎ
অমিত চৌধুরীর সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর বিস্তৃত পত্রালাপ। দুই বাংলার বহু পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, কবি ও সাহিত্যিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল। তাঁদের লেখা চিঠিগুলো শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের স্মারক নয়; এগুলো সমকালীন সাহিত্যিক পরিবেশ, সাহিত্যচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভাববিনিময়েরও মূল্যবান দলিল। এই পত্রাবলির একটি উল্লেখযোগ্য সংকলন কালাম আজাদ সম্পাদিত ‘অমিত চৌধুরীকে লেখা পত্রাবলি’ (তৃতীয় চোখ, ২০২৩)। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন ড. সলিমুল্লাহ খান এবং মুখবন্ধ লিখেছেন ড. মহীবুল আজিজ। এই সংকলনের মধ্য দিয়ে অমিত চৌধুরীর সাহিত্যিক যোগাযোগের ব্যাপ্তি এবং সমকালীন সাহিত্যিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।
কবি অমিত চৌধুরী
সত্তরের দশক থেকেই অমিত চৌধুরী কবিতা, ছড়া, লিরিক ও প্রবন্ধ লিখে আসছিলেন। তাঁর কবিতায় প্রেমের পাশাপাশি স্বদেশ, মানুষ, সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা অনুষঙ্গ, সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং নস্টালজিয়া স্থান পেয়েছে।
সমাজ ও সময়ের নানা অসংগতি তাঁকে কখনো ক্ষুব্ধ করেছে, কখনো প্রতিবাদী করেছে। তাঁর কবিতায় শ্লেষ, তীক্ষ্ণ উচ্চারণ ও ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে সমকালীন বাস্তবতার প্রতি তাঁর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে আত্মজিজ্ঞাসা, ব্যক্তিগত অনুভব ও বিপন্নতাবোধও তাঁর কাব্যচেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছন্দসচেতন কাব্যভাষায় তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রত্যয়কে মিলিয়ে দিতে চেয়েছেন।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—অমিত চৌধুরীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘চোখে রেখেছি তোমার চোখে’ (১৯৮৪), ‘শিপ্রা যমুনার ধারা’ (১৯৮৬), ‘জুঁই নয় পৃথ্বী’ (১৯৮৮), ‘রাজা আসছে রাজা কার’ (১৯৯১), ‘ঘাতক কসাই মহিমাকে ফেরত চাই’ (২০০৪), ‘মরণ বাংলাদেশটায়’ (২০০৫) এবং ‘ধোঁকাবাজ ধোঁকারাজ’ (২০১০)। তাঁর কবিতার পাশাপাশি ছড়া, লিরিক ও প্রবন্ধচর্চাও ছিল দীর্ঘস্থায়ী।
সম্পাদক অমিত চৌধুরী
কবি হিসেবে তাঁর পরিচয়ের পাশাপাশি সম্পাদক হিসেবে অমিত চৌধুরীর অবদানও বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। তাঁর সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী সংকলন ‘অ্যালবাম: গণআন্দোলন ১৯৮১–১৯৯০’, যা ইউসুফ মোহাম্মদের সহযোগে সম্পাদিত; সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কাব্যসংকলন ‘শেকল ছেড়ে’ (১৯৯৪); ‘গবেষক আবদুল হক চৌধুরী : কর্মকৃতি মূল্যায়ন’ (১৯৯৫); এবং যুদ্ধবিরোধী কাব্যসংকলন ‘কোথাও বেজেছে পাখোয়াজ’, যার প্রথম প্রকাশ ২০০৩ এবং দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৭ সালে।
এসব সম্পাদনাকর্মের মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়—সাহিত্য তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত আত্মপ্রকাশের মাধ্যম ছিল না; এটি ছিল সময়কে ধারণ করার, সমাজকে প্রশ্ন করার এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশেরও একটি মাধ্যম।
মানুষ অমিত চৌধুরী
সাহিত্যিক অমিত চৌধুরীর পাশাপাশি ছিলেন এক সহজ, আন্তরিক ও মানবিক মানুষ। বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন ‘সন্তোষ দা’। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারতেন। চারণ কবির মতো এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
সংসার ও পেশাগত জীবনের দায়িত্ব পালন করলেও সাহিত্য তাঁর কাছে ছিল এক ধরনের ব্রত। দীর্ঘদিনের সাহিত্যচর্চা, সম্পাদনা, পত্রালাপ ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের চারপাশে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক পরিসর তৈরি করেছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে পৃথ্বীরাজ প্রকৌশলী ও ডুয়েটের সহকারী অধ্যাপক; বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন এবং তাঁর স্ত্রীও পিএইচডি করছেন। ছোট ছেলে ডা. কীর্তিরাজ চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত এবং ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তাঁর ছোট মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
জীবনের শেষদিকে শ্রবণশক্তি কিছুটা কমে গেলেও তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, প্রখর মনন ও সাহিত্যভাবনা অটুট ছিল। বয়স তাঁকে সাহিত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি।
প্রয়াণ
দীর্ঘ সাহিত্যসাধনা ও সম্পাদনার জীবন শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে, চট্টগ্রামস্থ বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় অমিত চৌধুরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু একজন কবির প্রয়াণ ঘটল না; বিদায় নিলেন এমন একজন সম্পাদক, যিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে একটি সাহিত্যপত্রিকাকে নিজের শ্রম, সময় ও ভালোবাসায় বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। বিদায় নিলেন এমন একজন সাহিত্যসেবী, যিনি নিজে লেখার পাশাপাশি অন্যের লেখাকেও মূল্য দিয়েছেন, নবীনদের উৎসাহিত করেছেন এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বিষয়কে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।
অমিত চৌধুরীর উত্তরাধিকার
অমিত চৌধুরীর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তাঁর সম্পাদিত ‘মূল্যায়ন’-এর পাতায়, প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাগুলোতে, সম্পাদিত সংকলনে, বিস্তৃত পত্রালাপে এবং তাঁকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাহিত্যিক সম্পর্কের জালে।
বিশেষত ১৯৭৬ সাল থেকে আমৃত্যু ‘মূল্যায়ন’ সম্পাদনার যে দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেখেছেন, তা কক্সবাজারের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি সময়কে দেখেছেন, মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন, সাহিত্যিকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছেন এবং নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন।
অমিত চৌধুরীর জীবন তাই কেবল একজন কবির জীবন নয়; এটি একজন সাহিত্যসেবীর জীবন, একজন সম্পাদকের জীবন এবং মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়ার এক দীর্ঘ সাধনার ইতিহাস। তিনি চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন তাঁর কবিতা, তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ, ‘মূল্যায়ন’-এর অগণিত পৃষ্ঠা, তাঁর পত্রালাপ এবং অসংখ্য মানুষের স্মৃতি। একজন কবির মৃত্যু তাঁর কণ্ঠকে থামিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁর লেখা ও তাঁর সৃষ্ট সাহিত্যিক পরিসরকে থামিয়ে দিতে পারে না।
অমিত চৌধুরীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যসাধনা, মানবিকতা ও সম্পাদনাকর্ম বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরে স্মরণীয় হয়ে থাকুক। তাঁর প্রিয় ‘মূল্যায়ন’-এর পাতায়, তাঁর কবিতার শব্দে এবং তাঁকে ভালোবেসে যাওয়া মানুষের স্মৃতিতে তিনি বেঁচে থাকুন দীর্ঘকাল।
আলী প্রয়াস : কবি, সম্পাদক ও সংগঠক।
