মাহবুব রোকন◾মালয়েশিয়ার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর তরুণ প্রবাসী মুজিবুর রহমান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা এবং শরীরে অতিরিক্ত ঘুমের ইনজেকশন প্রয়োগ করার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকাহত স্বজনরা।
নিহত মুজিবুর রহমান মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নলবিলা এলাকার বাসিন্দা আনজু মিয়ার ছেলে। গত শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫৬ মিনিটে কেদাহ রাজ্যের কুলিম শহরে অবস্থিত সরকারি হাসপাতাল ‘হসপিটাল কুলিম’ এ তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মুজিবুর রহমান। মাঝখানে একবার ছুটিতে দেশে এসে কর্মস্থলে ফিরে যান। প্রবাসে কেদাহ রাজ্যের কুলিম শহরে কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে ফোরম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করতেন তিনি। তাঁর উপার্জনেই চলত সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখা পরিবারটি। তাঁর মৃত্যুকালে স্ত্রী ছাড়াও এক বছর ও চার বছর বয়সী দুটি অবুঝ শিশু সন্তান রয়েছে। প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের ছোট ভাই মিনারুল ইসলাম জানান, কিছুদিন ধরে মুজিবুরের জ্বর ও শরীরে খিঁচুনি দেখা দিয়েছিল। মালয়েশিয়ার সরকারি হাসপাতালগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার ধারণার কারণে তিনি প্রথমে হাসপাতালে যেতে চাননি এবং বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু রুমমেটদের জোরাজুরিতে পরবর্তীতে তাঁকে কুলিম হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মিনারুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে অতিমাত্রায় ঘুমের ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং চিরদিনের মতো আর ঘুম ভেঙে জাগেননি।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের অবহেলা বা অতিরিক্ত ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে প্রবাসে প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে মহেশখালীর গ্রামের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। ছোট্ট দুই শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্বজনরা। এখন তাঁদের একটাই আকুতি- আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে যেন মুজিবুর রহমানের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব নিজ জন্মভূমি মহেশখালীতে ফিরিয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের মরদেহ হাসপাতালটির হিমাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে।
