স্পট ভেরিফিকেশনে ভোটার নিবন্ধন: রোহিঙ্গাদের রোধে মহেশখালী মডেল ​


ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ◾​
কক্সবাজারের সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর ও নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও মহেশখালীতে তা মোকাবিলায় গড়ে তোলা হয়েছে এক অভেদ্য প্রতিরোধব্যবস্থা। উপজেলা নির্বাচন অফিসের ব্যতিক্রমী ‘স্পট ভেরিফিকেশন’ বা তাৎক্ষণিক মাঠপর্যায়ে সত্যতা যাচাই কৌশলে ভুয়া ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

​উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের উদ্ভাবনী ও কঠোর এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে চলতি মাসেই কোনো ধরনের জালিয়াতি ছাড়াই বাদ পড়া অন্তত ৫ হাজার প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিককে সফলভাবে ভোটার তালিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

​সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয়ভাবে বিস্তৃত হালনাগাদ ছাড়াও প্রতি বছর উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ও অফ-সাইকেলে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ থাকে। মূল জালিয়াতির ছকটি কাটা হয় এই বার্ষিক ও নিয়মিত কার্যক্রমের সুযোগ নিয়েই। কিন্তু মহেশখালী উপজেলা নির্বাচন অফিস এই অনিয়ম থামাতে পুরো প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তামূলক বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে।

​নতুন এই প্রক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- ছবি তোলার সুনির্দিষ্ট বুথেই সরাসরি উপস্থিত রাখা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে। আবেদনকারী ব্যক্তি ওই এলাকার প্রকৃত ও স্থায়ী অধিবাসী কি না, ছবি তোলার মুহূর্তেই তা স্পটে দাঁড়িয়ে শতভাগ নিশ্চিত করছেন জনপ্রতিনিধিরা। এর ফলে ভুয়া পরিচয়পত্রধারী বা কোনো রোহিঙ্গা আবেদনকারীর ছবি তোলার সুযোগ থাকছে না এবং মাঠপর্যায়ের দালাল চক্রের তৎপরতাও সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে।

​একই সঙ্গে অসময়ে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে মহেশখালীতে কঠোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যার মধ্যে ভেরিফায়েবল কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন জন্মসনদ, ‘রোহিঙ্গা নয়’ মর্মে বিশেষ প্রত্যয়ন, বাদ পড়া সনদ, জাতীয়তা ও যাচাই-বাছাই সনদ, ইউটিলিটি বিল, খতিয়ান, হোল্ডিং ও চৌকিদারি রশিদ, বাবা-মায়ের এনআইডিসহ পরিবারের অন্তত তিন স্বজনের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

​মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকানো অত্যন্ত জরুরি। মহেশখালী নির্বাচন অফিসের এই ‘স্পট ভেরিফিকেশন’ এবং জনপ্রতিনিধিদের বুথে সরাসরি যুক্ত করার কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর। পুরো কক্সবাজার জেলায় জালিয়াতি রোধে এই বিশেষ কনসেপ্টটি একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে দ্রুত চালু করা উচিত।

​মাঠপর্যায়ে এই ধরণের ব্যতিক্রমী ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রকৃত নাগরিকদের আইনি ভোটাধিকার শতভাগ সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।