ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে জাফরউল্লাহ-নিক্সন লড়াই

পৌরসভা নির্বাচন হলেও আধিপত্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভাঙ্গা পৌর নির্বাচনের মূল লড়াই হবে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সঙ্গে। 

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবু ফয়েজ মো. রেজাকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন কাজী জাফরউল্লাহ, তার ভাই ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েতুল্লাহ সাকলাইন, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোবহান মুন্সীসহ জাফরউল্লাহর সমর্থকেরা। 

আর জাফরউল্লাহর প্রার্থীকে হারাতে নিক্সন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন ও তাদের সমর্থকেরা আবু জাফর মুন্সী নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী অফিস খুলে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন পুরোদমে। 

এ দুই প্রভাবশালী নেতা মাঠে নামায় নির্বাচনের হাওয়া প্রবল বেগে বইছে ভাঙ্গা পৌর এলাকা জুড়ে। জমে উঠেছে নির্বাচনের কসরত। 

এ লড়াই শুরু হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি নির্বাচনে না আসায় যেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সারা দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সংসদ নির্বাচিত হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহর বিরুদ্ধে প্রার্থী হলেন নিক্সন চৌধুরী।

মাদারীপুরের বাসিন্দা ও হুইপ লিটন চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজী জাফরউল্লাহর পক্ষে ভাঙ্গা ও সদরপুরে নির্বাচনী সভা করেন। তারপরও নির্বাচনে কাজী জাফরউল্লাহকে নিক্সন চৌধুরীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এরপর থেকে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।  

সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও নিক্সন চৌধুরী তার ঘনিষ্ঠজন শাহাদাত হোসেনের পক্ষে নির্বাচন করে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। ওই নির্বাচনে জাফরউল্লাহর সমর্থক আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন মিয়া পরাজিত হন।  

ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আরো তিনজন মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন, বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদ মিয়া, চরমানাই পীরের ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রার্থী শামসুদ্দীন মাতুব্বর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল প্রিন্স। 

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আমীন বাংলানিউজকে বলেন, এরই মধ্যে পাঁচ মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। প্রত্যাহার ৪ মার্চ, প্রতীক বরাদ্দ ৫ মার্চ ও ২০ মার্চ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: