সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মনোনয়ন বাতিলের মাধ্যমে গুরুতর অন্যায় ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা আগামীতে প্রমাণিত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা অবস্থান করছে এবং তাদের মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ২০১৩ সালে আদালত অবমাননার একটি মামলায় মাত্র দুই মাসের মধ্যে একতরফা রায় দেওয়া হয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন, যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। আপিলাধীন কোনো মামলার বিষয়ে তার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আপত্তি তুললেও তা টেকেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদী আমলের একটি মামলাকে সামনে এনে রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে মনোনয়ন বাতিল করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সিদ্ধান্ত যে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের উদাহরণ, তা তার কাছে পরিষ্কার বলেও তিনি দাবি করেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারার অভিযোগে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ পুলিশ ও প্রশাসনের দুইজন কর্মকর্তার বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে কক্সবাজারে দায়িত্বে ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমেই এ ষড়যন্ত্র সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সমস্যার সুরাহা না হলে পরবর্তী ধাপে আরও আইনগত ও সাংবিধানিক পথ খোলা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
