আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

অাইডিয়ার বহর - মহেশখালীর সব খবর

⬤ আমাদের নতুন ওয়েবসাইটে স্বাগতম। ⬤ আমাদের ওয়েবসাইট www.moheshkhalirsobkhabor.com ⬤ ফেসবুক ফেইজ www.facebook.com/m.sobkhabor ⬤ ইউটিউব চ্যানেল www.YouTube.com/Sobkhabor24x7 ⬤ ফেসবুক গ্রুপ www.facebook.com/groups/m.sobkhabor ⬤

অাইডিয়ার বহর


মোহাম্মদ আবুল কালাম
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
মহেশখালী।



 



নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও মাঝে মাঝে মানুষের সাথে উন্নাসিকতা করতে খারাপ লাগে না ৷ মানুষের সাথে অহেতুক নানা বিষয়ে কথা বলে তাদের জ্ঞান গরিমার খবর নিতে ভালোই লাগে ৷ তবে সেসব ক্ষেত্রে তাদের সাথে একাকার হয়ে গেলে এক নির্মল কৌতুক উপভোগ করা যায় ৷ কিছু কিছু লোক ভুল তথ্য নিয়ে বিজ্ঞের মতো বলেই যাবে, কখনো বা তর্ক জুড়ে দিতেও দ্বিধা করে না ৷ তবে এমন লোকের সাথে তর্কে না জড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ ৷

(১) ছুটির দিনে হিলটপ সার্কিট হাউজে একটি অপ্রয়োজনীয় মিটিংয়ে উপস্থিত হতে হলো ৷ মিটিং শুরুর সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে অনেক অাগেই ৷ এলোমেলোভাবে বিচ্ছিন্ন সময় কাটাচ্ছি ৷ এক সময় অনেকের সাথে অামিও সার্কিট হাউজের বাহিরে বিশাল বৃক্ষাদির নিচে এসে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছিলাম ৷ উত্তর দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটি দীর্ঘশ্বাস নির্গত হলো ৷ দূরের ঐ অাবছা অাবছা পাহাড়ের প্রতিমূর্তিটি অাদিনাথ পাহাড় ৷ মনে হচ্ছিল কত কাছে ৷ শুধু একটি ব্রিজ হলে কত সহজেই কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যাওয়া যেতো ৷ মনে হয় এখনই একটি ব্রিজ নির্মাণের কথা ঘোষনা দিয়ে দিই ৷ ব্যাচমেট সহকর্মীদের সাথে খরচের বিষয় নিয়ে খাজুইরা অালাপে জড়িয়ে পড়লাম ৷ পরে অবশ্য পদ্মা সেতুর কথা মনে ভেসে উঠায় সে ভাবনা অচিরেই তিরোহিত হলো ৷ 

রাজস্ব শাখার সিনিয়র এক স্টাফ বিজ্ঞের মতো ঘুরাঘুরি করছিল ৷ অামি তাকে ডাকলাম ৷ অাচ্ছা বলুন তো ঐ যে অাবছা পাহাড়টি দেখা যাচ্ছে এটা কোন জায়গা ৷ তিনি বললেন স্যার মহেশখালী ৷ এ প্রশ্নের জবাব কক্সবাজারের ছোট্ট শিশুও দিতে পারবে ৷ তারপর বললাম বলেন তো এখান থেকে ঐ পাহাড়টার দূরত্ব কত হবে ৷ তিনি মুচকি হেসে বললেন স্যার এটা অামি বলতে পারবো না ৷ তাকে অভয় দিয়ে বললাম একটু ভেবে বলেন ৷ এবার তিনি কিছুটা অাশ্বস্ত হলেন ৷ অনেক ভেবে চিন্তে বললেন স্যার ৩৫ কিলোমিটার হবে ৷ উপস্থিত সবাই হা হো করে হেসে উঠলো ৷ অামিও হাসলাম ৷ কারণ এ দূরত্ব কোনক্রমেই ১০ কিলোমিটারের বেশি হবে না ৷

(২) একদিন অফিস কক্ষে দফাদার পদে পদোন্নতির ভাইবা নিচ্ছিলাম তিন জন চৌকিদারের ৷ অনেকদিন ধরে সে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে তদবির করছিল ৷ একজন প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম অাপনার উচ্চতা কত ? এ সময় অামার রুমে একটি বেসরকারী নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বসে ছিলেন ৷ ব্যাটা চৌকিদার দেরি না করেই বলে ফেললো , স্যার ৬ ফুট ৷ সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন ৷ অামিও ৷ কারণ তার উচ্চতা কোনক্রমেই ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির বেশি হবে না ৷ তার কিছুক্ষণ পরই চেয়ারম্যান সাহেব অাসলেন যার উচ্চতা চৌকিদারের চেয়ে ১ ইঞ্চি কম হবে ৷ তাকে বললাম অাপনার এ চৌকিদারের উচ্চতা নাকি ৬ ফুট ৷ চেয়ারম্যান সাহেব বললেন ৬ ফুট হবে তো স্যার ৷ অামার উচ্চতাও তো ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি ৷ এবার হাসির তীব্রতা অাগের হাসিকেও ছাড়িয়ে গেল ৷ অনেক কষ্টে হাসি চাপালাম ৷ একটু পরে তিনি বের হয়ে যাবার পর হাসলাম প্রাণখুলে ৷ সাথে বেচারা চৌকিদারের উপর থেকে সব রাগ বিগলিত হয়ে গেল ৷

ছোটবেলায় এক দুষ্ট হুজুরের কাছে নানা কৌতুক শোনার সুযোগ হয়েছিল ৷ তিনি একবার শুনালেন, '' শ্বশুড় সৌদি অারব থেকে দামী অাতর এনেছেন ৷ একবার মেয়ের জামাই বেড়াতে অাসলে তাকে এক শিশি অাতর উপহার দিলেন ৷ জামাই এমন অাতরের কৌটা জীবনে দেখেননি ৷ তিনি বুঝতেই পারছিলেন না এটা কী জিনিস ৷ তাই তিনি অাতর বের করে অাঙ্গুলে নিয়ে জিহ্বায় লাগাচ্ছিলেন ৷ এটা দেখে শ্বশুড়বাড়ির সবাই হাসলেন ৷ ক'দিন পর তার জামাইর বাবা বেয়াই প্রবাসী বেয়াইকে দেখতে অাসলেন ৷ বেয়াই সাহেব বললেন অাপনার ছেলেকে এক কৌটা অাতর দিলাম, অার সে কিনা তা অাঙ্গুলে নিয়ে খাওয়া শুরু করলো ৷ ছেলের বাবা ধমক দিয়ে বললেন অামার ছেলেটা একটা বেকুব ৷ সে খাবে তো রুটি দিয়ে খাক !! তাতে মেয়ের বাবার তো চোখ চড়কগাছ !!
Powered by Blogger.