বিশেষ প্রতিনিধি
............................
বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ক্রমশ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে মহেশখালী দ্বীপ। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের ফলে অনেকাংশে বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে ধলঘাটা ও মাতারবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গৃহহারা হয়েছে অনেক মানুষ। দ্রুত পুনর্বাসন ও ত্রাণের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে ক্ষতিগ্রস্তরা। এ দিকে আজ মহেশখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, এমপি। ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতে ত্রাণ বিতরণ ও পৃথক সভা করার কথা রয়েছে। এদিকে ধলঘাটা মাতারবাড়িসহ মহেশখালীতে ঠেকসই বেডি‍বাঁধ নির্মাণসহ দুর্যোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন দ্বীপবাসী।

সূত্র জানায় এবারের দুর্যোগে মহেশখালীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে সমগ্র মহেশখালীর নিন্ম‍াঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা বাড়ি গুলো। দুর্যোগে এখানে একজন নিহতসহ বহু লোক আহত হয়। গৃহহারা হয় অনেকে মানুষ। লবণ প্রজেক্ট ও চিংড়ি ঘেরের ক্ষতি হয় সর্বাধিক। ধ্বংস হয়ে যায় অনেক পানের বরজ। সরকারি হিসেবে মহেশখালীর ১ টি পৌরসভা সহ অপর ৮ টি ক্ষতির চিত্রটি অনেক কম হয়েও প্রকৃত প্রস্তাবে এই ক্ষতির বিষয়টি আরো ব্যাপক।

সরকারি প্রতিবেদন সূত্রে জানাযায়, এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ২ শ ২০ বর্গ কিলোমিটার, খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৮ শত ১০ জন, বেশী ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৫০ হাজার ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০ হাজার লোক।  সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা উল্লেখ করা না হলেও এখানে কালারমার ছড়ায় পানিতে ডু্বে এক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ। এখানে আহতের সংখ্যা ৪৩ জন, খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে  সংখ্যা ২৭৩০ টি, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সাড়ে ৫ হাজার ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজারটি। এখানে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ২৭৩০ টি বাড়ি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো সাড়ে ৭ হাজার বাড়ি। টাকার হিসেবে গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত ৯ লাখ টাকা সমপরিমাণের। ৪৬ একর জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, আরো ১৫ একর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। ২৫ একর জমির লবণ নষ্ট হয়ে ক্ষতি হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। ৪ হাজার একর জমির চিংড়ি ক্ষতি হয়েছে ৯০ লাখ টাকার। ধ্বংস হয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ টি। মসজিদ ও মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯ টি। সাড়ে ৩ কিলোমিটার পাকা ও ১২ কিলোমিটার কাচা সড়ক ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ৩২ কিলোমিটার কাচা সড়ক। ভীষণ ভাবে বাঁধ ধ্বংস হয়েছে ৩০ কিলোমিটার ও সামান্য ক্ষতি হয়েছে ২২ কিলোমিটার বাঁধের। আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরো ৩২ কিলোমিটার বাঁধ। তাছাড়া ২২ লক্ষ টাকার বন, বিদ্যুৎ লাইনে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮০ টি মৎস্য খামারে ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১০০ টি গভীর ও ১৮০ টি অগভীর নলকূপসহ পুকুর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮১ টি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি নৌকা ও সাড়ে ৩ হাজার একর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে এমন ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে গতকাল উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

শেয়ার:

মন্তব্য দিন:

0 comments so far,add yours