বিশেষ প্রতিনিধি 
কক্সবাজার জেলার সাগর দ্বীপ মহেশখালী  উপজেলা সদরে ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ মহেশখালী কলেজ। এ কলেজটি প্রতিষ্টার পূর্বে আর কোন উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্টান এ দ্বীপে গড়ে উঠেনি। প্রতিষ্টার ৩১ বছরের এক কলেজটি  জাতীয় করনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আন্দোলন চলছে। 

সদর ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার মাতারবাড়ী,ধলঘাট,কালামারছড়া, হোয়ানক,শাপলাপুর,ছোট মহেশখালী,কুতুবজোম, বড় মহেশখালী সহ ৮টি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে এসে ভর্তি হন। দ্বীপবাসীর শিক্ষা প্রসারের লক্ষে মহেশখালী কলেজটি স্থানীয় কিছু দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯ এপ্রিল ১৯৮৫ সালে প্রায় ০৪.৩৫একর জমি নিয়ে প্রতিষ্টাতা করেন। প্রথম প্রতিষ্টাতা  অধ্যক্ষ বাবু বাবুল কান্তি ভৌমিক স্থানীয় তরুন উদ্দ্যমী ১১জন শিক্ষক ও মাত্র ৫২ জন শিক্ষার্থী  নিয়ে  মানবিক বিভাগে পাঠদান শুরু করে।  কালক্রমে ১৩ জন অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  কলেজটির  প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন বলে কলেজের  সংরক্ষিত নথি পত্রের সুত্রে প্রকাশ।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি কলেজ জাতীয় করনের ঘোষানায় মহেশখালী কলেজটি জাতীয় করন হবে এমন আশায় জল্পনা কল্পনার শেষে ছিলনা দ্বীপবাসীর।  

উপজেলায় একটি মহিলা কলেজ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নামে জাতীয় করণ ঘোষনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এ উপজেলার আপামর জনতা। কিন্তু মা-র কাছে ছেলে সন্তানের আবদারে শেষ নেই, বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক,২টি বিষয়ে অনার্স এবং ডিগ্রী সহ প্রায় ২৬০০ শিক্ষার্থী ৩৫জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।  কলেজটি জাতীয় করনে  এখন শিক্ষার্থী,শিক্ষক, অভিভাবক ও সর্ব মহলের  প্রাণের দাবী হয়ে  দাড়িয়েছে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে দ্বীপ থেকে অন্যত্রে পড়া লেখার খরচ বহন করা অভিভাকদের  কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে । 

উপজেলায় সদরে একটি সরকারী বালিকা বিদ্যালয়  ছাড়া  মাধ্যমিক  ও উচ্চ মাধ্যমিকে ইতিপূর্বে আর শিক্ষা প্রতিষ্টান  সরকারী করন করা হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। মহেশখালী দ্বীপ নিয়ে বর্তমান সরকারের মহা উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে যে ভাবে প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে, তাতে সরকারের সিন্ধান্ত বাস্তবায়নে কৃষি জমি,চিংড়ী প্রজেক্ট, লবণমাঠ,পানের বরজ, বসতবাড়ী অধিগ্রহনের আওতায় নিলেও  কোন দাবী ছাড়াই অত্র-দ্বীপের জনগন জমি দিয়ে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ততা প্রকাশ  করছে। তারা দাবী করেন,উপজেলার জনবসতির প্রায় জেলে,লবণ মাঠের শ্রমিক,পানের বরজ ও চিংড়ী চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যে পরিমান জমি সরকারের উন্নয়ন খাতে অধিক গ্রহণ করছে  তার ফলে এলাকার মানুষকে  বিশেষ অগ্রধিকারের আওতায় মহেশখালীর প্রথম প্রতিষ্টিত  এই কলেজটি  জাতীয়করন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার শিক্ষাবিদরা। 

১৯৮৫ সালে ৫২জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শিক্ষার অগ্রযাত্রা শুরু করা কলেজটি গাছ-গাছালী,দৃষ্টি নন্দিত শহীদ মিনার,২০০ফুট দৈর্ঘ্য৩৫ফুট প্রস্থ একটি টিনসেড,ডিগ্রী ক্লাসের জন্য ১৮০ফুট দৈর্ঘ্য ৩৫ফুট প্রসস্থ ত্রি-তল ভবন,অনার্স ক্লাসের জন্য ১৫০ফুট দৈর্ঘ্য৩৫ফুট প্রসস্থ  ভবন,৪তলা বিশিষ্ট শেখ রাশেল একাডেমীক ভবন,কম্পিউঠার ল্যাব, বিজ্ঞন গবেষনাগার, ৫ হাজার পুস্তক সমৃদ্ধ লাইব্রেরী,মসজিদ,অধ্যক্ষ,শিক্ষক বাসভবন,ছাত্র হোষ্টেল, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী, অনার্স১ম বর্ষের পরীক্ষা কেন্দ্র  সহ ২৬শত শিক্ষার্থী নিয়ে মহা-বিদ্যালয়ে পরিনত হলেও উপজেলা সদরে ২শত গজের মধ্যে অবস্থিত হওয়া সত্তে ও   জাতীয় করণ থেকে বাদ পড়েছে এ কলেজটি। এ কলেজের বহু ছাত্রছাত্রী বিসিএস প্রশাসন সহ উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনগুরুত্বপূন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ কলেজে বর্তমানে ৩৭% উপজাতী ও সংখ্যালঘূ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। আগামী শিক্ষাবর্ষে  আরো ৩টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।কলেজটি ।২০১৪-১৫অর্থ বছরে বার্ষিক আয় ১,৪৮,২২,১২২টাকা থেকে ব্যয় ১,২৪,১২,১৩৫ টাকা-উদ্বৃতি ২৪,০৯,৯৮৬ টাকা। কলেজটি সাধারণ তহবিল স্থিতি ৪০ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ১৫ লক্ষ টাকা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি সম্প্রতি ২বার পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে ডিগ্রী কেন্দ্রও অনার্স কেন্দ্র চালু করেন। চলতি বছরে বিজ্ঞান তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহাম্মদ পলক কলেজটি পরিদর্শন করে একটি ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষনা করেন যা বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন। চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন কলেজ পরিদর্শনে এসে  ৫লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষনা প্রদান করেন। ডিগ্রী পরীক্ষায় ২০১০ সালে ৯৫.৪৫% ফলাফল অর্জন করে কলেজটি। এদিকে কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় করনের দাবীতে নিয়মিত মিছিল মিটিং, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান সহ বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।  

কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নামে একটি কলেজ জাতীয় করণ হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত স্বরুপ এক সাথে এতোটি কলেজ সরকারী করণ যুগান্তকারী পদক্ষেপ।  এ কলেজটি জাতীয় করণ করতে প্রয়োজনীয় সকল ফাইলপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে । সর্বাধিক ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে মহেশখালীর এই প্রথম  কলেজটি জাতীয় করণ করতে। 

মহেশখালী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন  জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীর জনকের কন্যা দ্বীপবাসীর উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষার  প্রসারে অচিরেই কলেজটি জাতীয় করন ঘোষনা করবে  এটাই প্রত্যশা। 

প্রতিনিধি: আবুল বশর পারভেজ

[সম্পাদিত নয়]

শেয়ার:

মন্তব্য দিন: