ফারুক ইকবাল 
 
মহেশখালী উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য সরকারী হাসপাতাল স্বাস্হ সেবার এক অপূরন্ত ভান্ডার পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায়,সঠিক প্রচারের অভাবে।উন্নত চিকিত্সা সেবার সব ব্যবস্হা থাকলেও মান সম্মত চিকিত্সা পাচ্ছেনা দ্বীপবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ও বেডে রুগিতে ঠাসা। রোগিদের হাসপাতালের সেবা কি রকম জানতে চাইলে তারা জানান নার্সরা খুব আন্তরিক হলেও ডাক্তার কম হওয়ায় সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছেন না। তবে তারা মহেশখালীর সন্তান ডা: মাহাফুজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রোগিরা বলেন, মহেশখালীর অনেক লোক ডাক্তার হলেও একমাত্র ডা: মাহাফুজই দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকার লোকদের পাশে আছেন।অনেক গরীব রোগি কান্নায় ভেঙে পড়ে সরকারী কোন ওষুধ পাচ্ছেনা বলে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ষ্টোর কিপার আনোয়ার জানান সরকার প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর ওষুধ সরবরাহ করেন এবং তা খুবই নগন্য। অন্যদিকে ওয়ার্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যের সাদৃশ্য ভিন্ন। পত্রিকার রিপোর্টার পরিচয় জেনে রোগির আত্মীয় স্বজনরা জানান , হাসপাতালের কর্মচারীর পরিচিতদের ফ্রি তে ওষুধ প্রদান করে শুধু। অন্যদিকে, হাসপাতাল ঘোরে দেখা যায় কর্মচারী স্বল্পতায় পড়ে আছে এক্সরে মেশিন,ইসিজি মেশিন। বেশ কিছুদিন আগে সংযুক্ত হওয়া টেলিমিডিসিন(বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের থেকে ভিডিও কলের  মাধ্যমে চিকিত্সা দেওয়া হয়) সেবাও থমকে আছে রোগির অভাবে। টেলিমুডিসিন এর টেকনেশিয়ান  এস এম রুবেল জানান, সঠিক প্রচার এবং রোগি না থাকায় মহেশখালীর মানুষ উন্নত সেবা পাচ্ছেনা। তিনি আরও জানান বেস কয়েক মাস হলেও মাত্র ৫ জন রোগি এই সেবা নিয়েছেন।  এই বিষয়ে হাসপাতালের কর্মকতাদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।উল্টো অনেক কর্মচারী নিজেদের মধ্যে দোষারোপ করেন এবং সিন্ডকেট তৈরি করে নিজেদের প্রভাব কাটানোর চেষ্টায় আছেন বেশ কজন। মাত্র তিনজন ডাক্তার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন আজ বৃহস্পতিবার । এ বিষয়ে জানতে চাইলে,প্রশাসনিক  কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান ,বেশকজন ডাক্তার ছুটিতে আছেন। কারন জানতে চাইলে তিনি তা বলতে অপারগতা জানান। এদিকে ডা: মাহাফুজুল হক একাই ওয়ার্ডে রোগিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।  তিনি জানান, শত প্রতিকুলত সত্তেও এলাকার জনগনের সেবা করার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি সরকারের প্রতিনিধিদিদের উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, সরকারের এত আন্তরিকতা সত্তেও কর্মচারি ও ডাক্তার স্বল্পতার কারনে দ্বীপ বাসী আধুনিক সেবা পাচ্ছেনা। তাই, ওনাদের এগিয়ে আসতে বলেন। উল্লখ্য, ২০১৬ সালে মধ্যেই ১০ জন ডাক্তার হাসপাতালটি ছেড়ে চলে যান। এই বিষয়ে চলে যাওয়া পৌরসভায় বাড়ী একজন ডাক্তারকে কল করে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারী হাসপাতাল হলেও ব্যাক্তি নির্দেশে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়। অনেক সময় অল্প শিক্ষিত লোকদের কাছ থেকেও বকা শুনতে হয় বিনা কারনে। তাই মনে না চাইলেও সম্মান বাচাতে চলে গেছেন বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
 
It is not edited
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: