মহেশখালীর শাপলাপুরে আবারও পুলিশ ও দস্যুদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আধ ঘণ্টা ব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় শেষে পুলিশ ৩১ মামলার পলাতক আসামি শাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ টি বন্দুক ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।
 
পুলিশ জানায় মহেশখালীতে ৩১টি মামলার ফেরারি আসামী চিহ্নিত শীর্ষ একজন বনদস্যুকে ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে মহেশখালী পাহাড়ি এলাকার দুর্ধর্ষ বন খেকো শাহাব উদ্দীন (৩৭) কে পুলিশ ৩টি দেশীয় তৈরী বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করেছে। সে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের নোয়া পাড়া গ্রামের বশির অাহমদ প্রকাশ গাঁজা বশিরের পুত্র বলে জানিয়েন পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ২৮টি বন মামলা, ১টি পুলিশ এসল্ট মামলা ও ২টি মারামারির মামলাসহ মোট ৩১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল ২৮ মার্চ বিকাল আড়াই টায় শাপলাপুর ইউনিয়নে মুকবেকী ববুধার পাড়া এলাকায় পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ ও বনদস্যুদের মধ্যে  প্রায় আধা ঘন্টা ব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে উভয় পক্ষে অর্ধ শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মহেশখালীর পাহাড়ী এলাকার ত্রাস শীর্ষ বনদস্যু শাহাব উদ্দীন দীর্ঘ দিন থেকে তার নেতৃত্বে একটি কাঠ চোরাকারবারী দল গঠন করে মহেশখালী পাহাড়ী এলাকার বন বিভাগের সরকারী বাগানের গাছ কেটে বাগান উজাড় সহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। তার সন্ত্রাসী দাপটে ওই এলাকায় কর্মরত ফরেস্টের লোকজনও অসহায় ছিল। গত বছরের অক্টোবরে ওই বনদস্যু শাহাব উদ্দীনকে সরকারী বাগানের গাছ কাটতে বাঁধা দেয়ায় সে তার দলবল নিয়ে শাপলাপুর বন বিটের বিট কর্মকর্তা অামির হোসেনকে গুলি করে ও মারধর করে অাহত করেছিল। সে ৩১ টি মামলার পরোয়ানা নিয়ে শ্বশস্ত্র ভাবে পাহাড়ে অবস্থান করছিল। পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পায় যে, বনদস্যু শাহাব উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল কাট চোরাকারবারী শাপলাপুরের মুকবেকী বুধার পাড়া এলাকার বাঁশ বাগানে অবস্থান করছে।  

গতকাল ২৮ মার্চ বিকাল আড়াইটায় টায় থানার এস অাই ফখরুল ইসলাম মিনহাজ ও এ এস অাই সঞ্জীব  সহ সঙ্গীয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাকে ধরতে ওই এলাকা ঘেরাও করে। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এক পর্যায়ে বনদস্যুরা পিছু হটতে থাকলে পলায়নপর অবস্থায় শাহাব উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় পুলিশ তার কাছ থেকে ১টি এবং ঘটনাস্থল থেকে ২ বন্দুকসহ মোট ৩টি বন্দুক ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। তার বিরুদ্ধে ২৮টি বন মামলা,১টি পুলিশ এসল্ট ও ২টি মারামারি সহ ৩১ টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
শেয়ার:

মন্তব্য দিন: