আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে করা আবেদন উচ্চ আদালতে স্থগিত, মহেশখালীতে বিক্ষোভ - মহেশখালীর সব খবর

⬤ আমাদের নতুন ওয়েবসাইটে স্বাগতম। ⬤ আমাদের ওয়েবসাইট www.moheshkhalirsobkhabor.com ⬤ ফেসবুক ফেইজ www.facebook.com/m.sobkhabor ⬤ ইউটিউব চ্যানেল www.YouTube.com/Sobkhabor24x7 ⬤ ফেসবুক গ্রুপ www.facebook.com/groups/m.sobkhabor ⬤

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে করা আবেদন উচ্চ আদালতে স্থগিত, মহেশখালীতে বিক্ষোভ


এম. ছালামত উল্লাহ  

ইতোমধ্যে সন্ত্রাসের আতংক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে করা হোয়ানকের জামায়াত ক্যাডার ও গোলাম আজমের দেহরক্ষী খ্যাত আকতার হামিদ বাহিনীর করা এক আবেদন গতকাল উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। এদিকে ওসিকে মহেশখালী থানা থেকে বদলী করে এলাকার আইনশৃঙ্খলা অবনতি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য জামায়াত-শিবিরের এজেন্টদের এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জামায়াত-বিএনপির এজেন্ট ও তাদের দোসরদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

সূত্র জানায়, প্রদীপ ওসি মহেশখালীতে যোগদানের পর থেকে নিরাপদে ঘুমাচ্ছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। মহেশখালী চার ৩দিকে সাগর আর ১দিকে পাহাড়। এ উপজেলার রাজনৈতিক আর সম্পদশালীদের প্রধান নেশা কে কার সহায় সম্পদ দখল করে নিজের আখের গোছাতে পারে। সেই প্রতিযোগিতার কারণে কিছু কিছু ছোট পরিবারের সন্তানরা বড় লোকের আশীর্বাদে মহেশখালীর ইউনিয়ন ও এলাকা ভিত্তিক সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি করে । মহেশখালী উত্তর দক্ষিণ লম্বা একটি উপজেলা এ উপজেলায় যার ক্ষমতা আছে তার অনেক ক্ষমতা যার নেই তার কিছু নেই । সে কারণে নিরীহ মানুষের পক্ষে থানা পুলিশের অবস্থান থাকে বেশী। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের পরে কিছু পেশাদার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিজমা পাশাপাশি সরকারী খাস জমি দখলে নিয়ে বংশ পরস্পর সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ সরওয়ার আজম
একেক বাহিনী এক একটি সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মহেশখালী থানায় অফিসার ইন-চার্জ প্রদীপ কুমার দাশ পিপিএম(বার) যোগদানের পর একদিকে সন্ত্রাসী বাহিনীদের লোকজন যেমন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে তেমনি বহুযুগ কাল থেকে চলে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য হয়ে আসে মহা বিপদ। মাদকের ব্যবসাতো মূল উৎপাটন হয়েছে একই সাথে ব্যবসায়ীরা মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকিয়ে রয়েছে কারান্তরীন অন্য সন্ত্রাসীরা রয়েছে অন্যত্র পালিয়ে। ২০১৭ সালে শুরুর দিকে সন্ত্রাসী জনপদ হোয়ানক হয়ে উঠে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুইচ গেইট দখল, বেদখল আত্মীয়ের মধ্যে চরম গোলাগুলির প্রতিযোগিতা। দিনের বেলায় ছেলে মেয়েরা স্কুল, মাদ্রাসায় যাওয়া আসা ছিল আতংকে। কখন কোন দিক থেকে গুলি এসে জীবন যায়। এমন ভীতি নিয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেন। রাতের বেলায় চলে কয়েকটি গ্রুপের দফায় দফায় গুলি বিনিময় ভারী অস্ত্রের ঝনঝনানি হলে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় ঐসকল গ্রামে নিরীহ মানুষের।

বিগত ১৪/০২/১৭ইং তারিখে এক আলোচিত সন্ত্রাসী যিনি কক্সবাজার জেলায় পেশাগত সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকায় ৪নং নাম্বার আসামী। যার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় ২০১৩ সালে এপ্রিলে জিআর মামলা নং-৩২,নারী ও শিশু নির্যাতন ও অপহরণ। ২০০৫সালে মহেশখালী থানার মামলা নং-১৫,ধারা-হত্যার চেষ্টা সহ শ্লীলতাহানি। ২০১৫সালে মামলা নং-৩১,ধারা-অস্ত্র আইনের। একই সালে মহেশখালী থানার মামলা নং- ০৯,ধারা- অস্ত্র আইনের । মহেশখালী থানায় ১৪ ফেব্রুয়ারি/১৭ইং মাসে অস্ত্র ও পুলিশ এসল্ট মামলা বিচারাধীন। এক সময়কার মানবতা বিরোধী  অপরাধে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ইসলামীর আমীর গোলাম আযমের দেহরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশের আলোচিত আক্তার হামিদ। তিনি বিগত জোট সরকারের আমলে জামায়েত ইসলামীর প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী রাজত্বের মাধ্যমে গড়ে তুলে আনসার বাহিনী, সত্তার বাহিনী, এনাম বাহিনী, স্বপন বাহিনী, ইসমাইল বাহিনী, কোদাইল্যা বাহিনী সহ বহু নামে ক্যাডার সদস্য। যাদের দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, লবণ মাঠ দখল, চিংড়ী ঘের দখল, পাহাড়ের সরকারী বনভূমি দখল, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের সাথে বাহিনীর অন্যতম সদস্য আব্দুস সাত্তারকে দিয়ে জেলা সহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় দেশীয় তৈরি অস্ত্র সরবরাহ বিপণনের ব্যবসা করে আসছিল আক্তার হামিদ। যাকে ২০০৫সালে ৫টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ১৭টি গুলি সহ র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম গ্রেফতার করেন। ১৪ইং ফেব্রুয়ারি /১৭ হোয়ানকের কেরুনতলীস্থ নয়াপাড়া সোলাইমানের লম্বা পাহাড় নামক স্থানে পলাতক আসামী ধরতে অভিযান চলাকালীন সময়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের গুলি বিনিময় কালে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের ভিতরে পালাতে থাকে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মহেশখালী হাসপাতালে নিয়া আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সন্ত্রাসী সাত্তার নিহতের পর আক্তার হামিদ বাহিনীর দিন দিন এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে। মহেশখালী থানা পুলিশের তৎপরতায় সন্ত্রাসী আক্তার, এনাম ও কোদাইল্যা বাহিনীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে বিভিন্ন দপ্তরে ও সংবাদ মাধ্যমে দুঃসাহসিক অফিসার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র তদবির ও মামলা মোকদ্দমা জড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে আক্তার হামিদ বাহিনী।

ওসি প্রদীপ যোগদানের পর এলাকা ভিত্তিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর কার্যক্রম ক্রমে ক্রমে বন্ধ হতে চলে। অতীতের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে বিগত ঈদুল-ফিতরে মহেশখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণ, সড়ক ডাকাতি, ঈদ বাজারে পকেটমার, ছিনতাই ছাড়া এই দ্বীপ উপজেলায় সাধারণ নাগরিক শান্তিতে ঈদ উদযাপন করার নজির সৃষ্টি করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করা চাকুরীজীবী ব্যবসায়ী ও বহু শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিবছর ঈদের সময় দিনের বেলা ছাড়া সন্ধ্যার পরে গাড়ী কিংবা হাঁটাচলাও বিপদ মুখি ছিল। এবারের ঈদে ওসি  প্রদীপ কুমারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করা চাকুরীজীবী ব্যবসায়ী ও বহু শ্রেণী পেশার ঈদ মুখী মানুষ প্রিয় জনের সাথে ঈদ উদযাপন করে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি হোয়ানকে দুই বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এক সন্ত্রাসী নিহত হয়। এনিয়ে রীতিমতো একটি হত্যা মামলাও হয়। কিন্তু বিষয়টিকে গোপন রেখে রাশেদুল হক নামের মহেশখালীর স্থানীয় এক আইনজীবী অনেকটা অতি উৎসাহী হয়ে ব্যক্তিগত ঈর্ষা থেকে আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে একটি আদেশ নেয়। পরে গতকাল এনিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে আদালত পূর্বের আদেশটির উপর স্থগিতাদেশ দেন। ওসি প্রদীপের যৌক্তিক এই আবেদনের পক্ষে নিয়ে আদালতে আলাদা ভাবে আবেদন করেন খোদ দেশের পুলিশ প্রধান(আইজিপি) পর্যন্ত। পূর্বের আদেশটির প্রতি স্থগিতাদেশ হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি জানান আল্লাহর অশেষ রহমতে রাষ্ট্রের স্বার্থে জনগণের সেবা করব বলেই পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নিয়েছিলাম। মহেশখালীতে বদলী হয়ে আসার পর যখন দেখি এখানে মাদক ও সন্ত্রাস অস্ত্রবাজি মাথা চড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে ঠিক তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব বন্ধে নিজকে নিয়োজিত করেছিলাম। এই কাজের পর এলাকার অনেক শান্তিপ্রিয় মা, চাচা আমার জন্য দোয়া করতে দেখেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ নেই মানুষের সেবাটাই মুল। এবিষয়ে একজন সিনিয়র আইনজীবী জানান মূলত একটি ঘটনায় একটি মামলা হয়ে যাওয়ার পর একই ঘটনায় অন্য কোনো মামলা করার সুযোগ নেই। বিধিমত তদন্তে যা হবে এই মামলা দিয়েই হবে। কিন্তু আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদেশটি নেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালত বিষয়টি অনুধাবন করেই পূর্বের স্থগিত দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে মহেশখালীর এই আইনজীবীর বিতর্কিত ভূমিকা ও মহেশখালীর মত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতি করতে জামায়াত নেতা ও গোলাম আজমের দেহরক্ষী আকতার হামিদের লোকজন এবং জামায়াত বিএনপির দোসরদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে মহেশখালী সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমীকলীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। বিকেলে উপজেলা সদর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে তা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক বটতলা এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ কামালের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোবারক হোসেন বারেক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ সরওয়ার আজম, উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ওয়াজেদ আলী মুরাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক হালিমুর রশিদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসময় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান মিন্টু মেম্বার, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আসহাদ উল্লাহ সায়েম, পৌর শ্রমিক লীগ সভাপতি রিপন উদ্দিন রিপন, যুবলীগ নেতা শাহজাহান, নজরুল পৌর ছাত্রলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিন হিরু, যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া, শাহেদ বক্স, রাশেদ খান মেননসহ মিছিলের নেতৃত্বভাগে অনেকেই ছিলেন।

বিক্ষোভের ভিড়িও দেখুন
Powered by Blogger.