-->
ওসি দিদারুলেই আস্থা সবার

ওসি দিদারুলেই আস্থা সবার

গেল ২দিন আগে মহেশখালী থানা থেকে বদলীজনিত বিদায় নিয়েছেন ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর। ওসি প্রভাষ শুরু থেকেই উপজেলাটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বেশ প্রশংসা কুড়ালেও তার শেষ সময়কালে কিছুটা অবনতির দিকে যেতে থাকে এই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তিনি বিদায় নেওয়ার দু’মাস আগে মহেশখালীতে ১০টির বেশি খুনের ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে  তার স্থলে ক্রাইমজোন খ্যাত এই উপজেলায় নতুন ওসি হয়েছেন থানাটিরই এক সময়ের সাবেক সফল তদন্ত ওসি দিদারুল ফেরদৌস। চৌকস এই পুলিশ অফিসারের পুন:যোগদান ইতিমধ্যে মহেশখালীতে জন্ম দিয়েছে নানান আলোচনা-সমালোচনার; যে আলোচনা গড়িয়েছে চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অবদি। 

অনেকে মনে করছেন পূর্বে তদন্ত ওসি থাকাকালীন মহেশখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রেখেছিল ফেরদৌস। সন্ত্রাস-অস্ত্রবাজীও নিয়ে এসেছিল ছিল প্রায়ই শুন্যের কৌটায়। তাই তার উপর আরও একবার আস্থা রাখতে চাই এই দ্বীপ জনপদের লোকজন। ২০১৮ সালে আইজিপিএস ব্যাচ প্রাপ্ত এই পুলিশ অফিসারকে নিয়ে মহেশখালীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনের ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের সহ সম্পাদক  অসীম দাশ-

তারেকবিন ওসমান শরীফ, চেয়ারম্যান কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ

“ওসি দিদারুল ফেরদৌসকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি পূর্বে তদন্ত ওসি থাকা কালীন মহেশখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছিলেন। এখন তিনি ওসি হিসেবে এসেছে এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য। 
আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন সাম্প্রতিক সময়ে করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও মহেশখালীতে অনেকগুলো খুনে ঘটনা ঘটে গেল। এই যে একটা আইন শৃঙ্খলার অবনতি এবং সামাজিক অবক্ষয়; এটি তিনি দুর করবেন বলে আমার বিশ্বাস।”

এম.বশির উল্লাহ: সাংগঠনিক সম্পাদক, মহেশখালী প্রেস ক্লাব

“নতুন ওসি দিদারুল ফেরদৌসের সাথে আমরা কথা বলেছিলাম। তিনি আমাদের জানিয়েছে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবেন। সন্ত্রাসীদের কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে না সাফ জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি মহেশখালীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবেন; সেখানকার শিক্ষার মান উন্নয়নেও কাজ করবেন-আরও বলেছেন ওসি।”

হালিমুর রশিদ: সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহেশখালী শাখা

“ওনি মহেশখালীর পরিচিত মুখ। আগেও কাজ করেছেন এখানে। মহেশখালীর কোথায় কী সমস্যা রয়েছে সেটা ওনার ভাল করেই জানা। অত্রএব তিনি এই উপজেলার আইন শৃঙখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রাখবে। তার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে।”

জুয়েল বড়ুয়া: সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মহেশখালী

“ওসি দিদরারুল ফেরদৌস সাহসী একজন পুলিশ অফিসার। তিনি কতুবদিয়া থাকা অবস্থায় কক্সবাজারে একবার দেখা হয়েছিল আমার সাথে। বিগত সময়ে কতুবদিয়ায় তার কর্মকান্ড আমাদের আশা জাগাচ্ছে। অত্র অঞ্চলের বেশির ভাগ সমস্যা তৈরি হয় ভুমি কেন্দ্রীক,তাই আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করব তিনি যেন সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখেন।"

মোহাম্মদ মানিক: সভাপতি, ডুসাম

“দেশে করোনাকালীন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রাতদিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিতাপের বিষয় এই মহেশখালীতে করোনাকালীনও মানুষ খুনের ঘটনা ঘটছে। মহেশখালীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে ঢুকছে মাদকদ্রব্য। ঘটছে বাল্যবিবাহের মত সামাজিক অপরাধও। তাই নতুন ওসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আশা রাখছি তিনি পুনরায় মহেশখালীর শান্তি ফিরিয়ে আনবেন।”

ওসি দিদারুল ফেরদৌস যা বললেন--

“মহেশখালীতে আগেও ছিলাম। তবে এখন আরও বেশি ক্ষমতা নিয়ে আসলাম। কুতুবদিয়ার উপকূলকে যেভাবে সন্ত্রাসমুক্ত করেছি, সেভাবে মহেশখালীকেও সন্ত্রাসমুক্ত রাখা হবে।
দুই দুইবার জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,“ মহেশখালীতে সাম্প্রতিক সময়ে আনাগোনা বেড়েছে মাদক কারবারীদের। আমি প্রথমে এটা নিয়েই কাজ করবো। আর এ কাজে আমি সবার সহযোগিতা চাই।”


শিরোনাম ছিলো.. "ওসি দিদারুলেই আস্থা সবার"

Post a Comment

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel