আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

পাহাড় কাটাঃ মহেশখালীতে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান, ডাম্পার জব্দ (ভিডিও) - মহেশখালীর সব খবর

পাহাড় কাটাঃ মহেশখালীতে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান, ডাম্পার জব্দ (ভিডিও)

স্টাফ রিপোর্টার।। মহেশখালীতে পাহাড় কাটা মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ডাম্পর জব্দ করেছে প্রশাসন। দুপুরে মহেশখালী পৌর সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকা থেকে ডাম্পারটি জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় মাটি পরিবহণের কাজে মোট ৩টি ডাম্পার পাওয়া গেলেও গাড়িগুলোর ড্রাইভার পলাতক থাকায় দুইটা গাড়ি জব্দ করা সম্ভব হয়নি। তিনটি গাড়িই একই মালিকের। গাড়ির মালিক ছোট মহেশখালী এলাকার জাহেদ সিকদার। জব্দ হওয়া গাড়িটির বিষয়ে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। -গাড়িটি নিলামেও উঠতে পারে।- জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুইচিং মং মারমা জানান -দুপুরের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মাটি পরিবহণের কাজে নিয়োজিত ৩টি গাড়ি আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন -মহেশখালী পৌর সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পেছনে এক খণ্ড জমি (খোলা জায়গা) ভরাট করার কাজে মাটি পরিবহন করছিল ৩টি ডাম্পার। স্থানীয়দের চলাচলের অসুবিধা করে মূলত এ গাড়িগুলো মাটি পরিবহণের কাজ করে যাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা ডাম্পারগুলো আটক করে। এ সময় ডাম্পারগুলোর ড্রাইভাররা পালিয়ে যায়। যার ফলে গাড়িগুলো জব্দ করে নিয়ে আসা যাচ্ছিল না। পরে এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাহায্য চাওয়া হলে -তিনি ঘটনাস্থলে একজন আনসার সদস্য পাঠান। পরে ওই আনসার সদস্যকে গাড়িগুলোর পাহারায় বসিয়ে ড্রাইভারদের খোঁজ করা হয়। এদিকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ড্রাইভারদের সন্ধান পাওয়া না যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অপর একজন ড্রাইভার পাঠিয়ে গাড়িগুলো আনার উদ্যোগ নেন। ওই ড্রাইভার ৩টি গাড়িই চালিয়ে উপজেলা কম্পাউন্ডে আনার চেষ্টা চালালেও নির্দিষ্ট চাবি ছাড়া দুইটা গাড়ি কোনো ভাবেই চালু করা যায়নি। শুধু এটি গাড়ি চালু করা যায় এবং গাড়িটি জব্দ করে উপজেলা কম্পাউন্ডে নিয়ে আসা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট জানান -গাড়িগুলো যেহেতু একই মালিকের তাই -অন্যকোনো বিকল্প উপায়ে তা জব্দ করার চেষ্টা চালানো হয়নি। যেহেতু -একটি গাড়ি আনা গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এদিকে গাড়িটি জব্দ করে আনার পর রিয়ান সিকদার নামের এক ব্যক্তি গাড়িটি ছাড়িয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুইচিং মং মারমার কাছে তদবির করতে আসেন বলে জানান তিনি। তবে তিনি গাড়ি ছেড়ে দেয়নি। রিয়ান সিকদারের বরাত দিয়ে এসিল্যান্ড জানান -গাড়িগুলো তিনি তার ভাই জাহেদ সিকদার এর বলে তথ্য দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে উল্লেখ করে -গাড়িটি জব্দ অবস্থায় রেখে দেওয়া হতে পারে বা নিলামে দিয়ে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা হতে পারে বলেও জানান প্রশাসনের এ কর্মকর্তা। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান জানান -জব্দ হওয়া এ গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে রিয়ান সিকদার তার কাছেও তদবির করতে এসেছিল। তবে জব্দ গাড়ি ছাড়ার কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি। 

সূত্র জানায় -মহেশখালীতে একটি প্রভাবশালী পাহাড় খোকো চক্র দীর্ঘদিন থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির কাজ করে আসছে। এ ঘটনার আগেও ওই জাহেদ সিকদারকে পাহাড় কাটার দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুইচিং মং মারমা। 

No comments

Powered by Blogger.