নীরবে ইন্দোনেশিয়া থেকে মাতাবাড়ি এসে ভিড়েছে দ্বিতীয় জাহাজ


বিশেষ সংবাদদাতা।।
ইন্দোনেশিয়া থেকে পানামার পতাকাবাহী দ্বিতীয় জাহাজটি ভিড়েছে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে। মাতারবাড়ি চ্যানেল দিয়ে দ্বিতীয়বারের মত এ জাহাজ -নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছে। 

জানাগেছে - উপজেলার মাতারবাড়িতে এই চ্যানেল ব্যবহার করেই মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১০টার পর পানামার পতাকাবাহী ‘ভেনাস ট্রায়াম্ফ’ নামের প্রথম জাহাজটি মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে ভেড়ে। 

গত ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় জাহাজ এই চ্যানেল ব্যবহার করে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসে। গত দুই দিন আগে এ জাহাজে প্রাথমিক অপারেশন শুরু হয় বলে জানাগেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে চলবে এ অপারেশনাল কাজ। চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় হওয়ায় মাতারবাড়ির গভীর সাগরে পৌঁছানোর পর চ্যানেল ধরে জাহাজটিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নিয়ে যান চট্টগ্রাম বন্দরের পাইলটরা।

সূত্র জানায় -বঙ্গোপসাগর থেকে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার।

প্রসঙ্গতঃ মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান। বাকি অর্থের মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২ হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে ২ হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। এর সব নকশা জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে।

প্রথমে মাতারবাড়িতে একটি কনটেইনার টার্মিনালসহ মোট দুইটি টার্মিনাল হবে।

আগামী ২০২৬ সাল নাগাদ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে নিয়মিত জাহাজ ভেড়ানো শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এদিকে ২৯ ডিসেম্বর মাতারবাড়িতে প্রথম জাহাজ ভেড়ার পর দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় পড়ে যায়, এটিকে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এরইমধ্যে অত্যন্ত নীরবে দ্বিতীয় জাহাজটিও ভিড়লো মাতারবাড়িতে। 

ছবিঃ রকিয়ত উল্লাহ

Post a Comment

Previous Post Next Post