-->
বাড়িকাণ্ডঃ মূলহোতাকে আটক করে পুলিশে দিলেন চেয়ারম্যান তারেক, টাকা উদ্ধার

বাড়িকাণ্ডঃ মূলহোতাকে আটক করে পুলিশে দিলেন চেয়ারম্যান তারেক, টাকা উদ্ধার

বিশেষ সংবাদদাতা।। মহেশখালীর কালারমার ছড়া ইউনিয়নের বিভিন্নগ্রামে বিনামূল্যের সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে হাতিয়ে ‍নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ প্রতারণাকাণ্ডের মূল হোতা রুবেল মিয়া নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন কালামার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করা দেড় লাখ নগদ টাকা। এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর তালিকা করে বাড়ি দেওয়ার আশা দিয়ে অন্ততঃ ৫শত পরিবারের কাছ হতে ৫, থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি। এ ঘটনায় কালারমার ছড়ার চেয়ারম্যান বাদি হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। 

সূত্র জানায় -গত দুই মাস ধরে উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র লোকজনের তালিকা তৈরি করার কাজ করছিল একটি চক্র। চক্রটি তাদের মাধ্যমে দরিদ্র লোকজনের জন্য ‘বাইর থেকে’ বাড়ি এসেছে বলে উল্লেখ করে দরিদ্র লোকজনকে বাড়ি দেওয়ার আশা দিয়ে প্রতিটি বাড়ির মালিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছিল টাকা। বাড়িভেদে ৫ হাজার, ৭ হাজার, ১০ হাজার ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি। এরই মধ্যে লোকজনের প্রতি বিশ্বাস জমানোর জন্য তারা ‘বাড়ি দেওয়ার নাটক’ সাজায়। বিভিন্নজনের বাড়িতে বাড়ি নির্মাণ নাটকের অংশ হিসেবে ইট, সিমেন্ট ও টিন নিয়ে যায়। কয়েকজনের বাড়িতে ইটের দেওয়ালও তোলে। এলাকায় এ রকম দৃশ্যমান কাজ দেখে লোকজন বাড়ি পাওয়ার জন্য এ প্রতারক চক্রের কাছে ধর্না দিতে থাকে। তবে প্রতারকগণ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে গোপন রাখার জন্য লোকজনকে শর্ত দেয় এবং বিষয়টি জনে জনে বলাবলি করলে বাড়ি পাওয়ার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে বলে জানায়। এরই মধ্যে বিষয়টি কালারমার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানার পর তিনি দ্রুত বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহেশখালী থানার ওসিকে অবগত করেন। তিনি প্রশাসনের পরার্মশে প্রতারক চক্রের সদস্যদের আটকের উদ্যোগ নেন। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সমগ্র কালারমার ছড়ায় মাইকিং করিয়ে দেওয়া হয় এ প্রতারক চক্র থেকে লোকজনকে সাবধান থাকার জন্য এবং আটক করতে সহযোগীতা করার জন্য। ইতোমধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় চক্রের মুল হোতা রুবেল মিয়া তার বাড়িতে আছে মর্মে খবর পেয়ে চেয়ারম্যান দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।  

এদিকে নিজেকে নিজেই প্রতারক বলে সনাক্ত করেছে রুবেল মিয়া, তিনি তার নিজের শান্তিও দাবি করেছেন। রাতে থানায় রুবেল মিয়ার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। কেন এমন কাজ করেছে জানতে চাইলে রুবেল মিয়া জাবর দেয়- প্রতারণামূলক ভাবে সে এমন কাজ করেছে, এ নিয়ে তার শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মনে করে সে। তার একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসহাক নামের আরও এক যুবককে সাথে নিয়ে সে এ কাজ করেছে বলে জানায়। ইসহাকের দায়িত্ব ছিল হোয়ানক ইউনিয়নের। 

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানান - তিনি বিষয়টি জানার পর এ নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন এবং প্রশাসনকে অবগত করেন। কালারমার ছড়া বাদেও পাশের ইউনিয়ন শাপলাপুর এবং হোয়ানক থেকেও চক্রটি বিশাল টাকা হাতিয়ে নেয় বলে তথ্য পান। প্রায় ৫শত পরিবার তাদের খপ্পরে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করে চেয়ারম্যান তারেক বলেন -প্রাথমিক ভাবে ১২৫টি পরিবারের একটি তালিকা তিনি পেয়েছেন, যাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্রটি।  ‌

এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই জানান- চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি প্রতারক চক্রের সদস্যদের ধরার জন্য তাকে অনুরোধ করি। এরই মধ্যে তিনি চক্রের মূল হোতা রুবেল মিয়াকে তিনি আটক করতে সক্ষম হন। ইতোমধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করা দেড় লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। এমন উদ্যোগের জন্য তিনি চেয়ারম্যান তারেককে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান তারেক বাদি হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। 

শিরোনাম ছিলো.. "বাড়িকাণ্ডঃ মূলহোতাকে আটক করে পুলিশে দিলেন চেয়ারম্যান তারেক, টাকা উদ্ধার"

Post a Comment

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel