আমরা মহেশখালীর কথা বলি..

মাতারবাড়ি বেড়িবাঁধে সংস্কারে অনিয়ম, আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী - মহেশখালীর সব খবর

মাতারবাড়ি বেড়িবাঁধে সংস্কারে অনিয়ম, আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী


নিজস্ব প্রতিবেদক
, মাতারবাড়ি থেকে ফিরে।। মহেশখালীর  মাতারবাড়ি ধলঘাটায় টানা বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্রায় ২কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২শতাধিক বাড়িঘর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজ করতে গিয়ে অক্ষত বেড়িবাঁধগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বেড়িবাঁধের পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে ভাঙা অংশে ফেলায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এনিয়ে আবারও আতংকে দিন খাটাচ্ছে বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এদিকে অনিয়মের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিও ব্যাগে অল্প বালি দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করে তাদের দায়িত্ব শেষ করতে চায় বলে জানান এলাকাবাসী।

মাতারবাড়ি সাইটপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মোনাফ জানান, যেখানে জিও ব্যাগ বসানো হচ্ছে তার পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি তোলে জিও ব্যাগে ভরাট করে আবারও ঝু্ঁকিতে ফেলছে।

এই কাজে নিয়োজিত জহির এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়োজিত শ্রমিকরা অনিয়ম করছে কি না জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

উপজেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, টানা অতিরিক্ত  বৃষ্টির কারণে মহেশখালীতে ৮৮ গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি, ১২'শ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ৪৫ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত, ২কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৮টি ইউনিয়ন ও১টি পৌরসভায় ৪৭ মেট্রিক টন চাল, ২৫০প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ২লক্ষ ১০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

মাতারবাড়ির সাইটপাড়ার বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে সিরাজুল হক বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সম্পূর্ণ ঘর ভেঙে গেছে, যদি টাকা পয়সা থাকত তাহলে অন্য জায়গায় চলে যেতাম। কোথায় গিয়ে থাকবো? তাই বেড়িবাঁধের পাশেই জোয়ারের পানির সাথে যুদ্ধ করে থাকতে হয়, এই পর্যন্ত ৬বার জোয়ারের পানিতে ঘর ভাঙ্গছে, শুধু মাত্র বেড়িবাঁধের কারণে

জালিয়াপাড়া মৃত কোরবান আলীর স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৭০) জানান, আমাদের বাড়ি সাগের আরও মধ্যখানে ছিল,সব কেড়ে নিয়েছে জোয়ারের পানিতে, তবে এবারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল হাস-মুরগি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, সরকার থেকে এ পর্যন্ত ১০কেজি চাল পেয়ছি।

রশিদা খাতুন (৭৩) বলেন, বস্তা(জিও ব্যাগ) দিয়ে কিছুটা রক্ষা হয়েছিল, এবারে সব তলিয়ে গেছে, বাঁশঝাড়, ল্যাটিন, ঘরসহ সব গেছে কেউ যদি একটা ঘর দেয় তাহলে থাকতে পারবো।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নয়-ছয় করে সম্পূর্ণ দূনীর্তির আশ্রয় নিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার করায় পানির ধাক্কায় বাঁধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয় প্রতি বছর। অন্তত বর্ষা মৌসুমে পানি ঠেকাতে বেঁড়িবাধ টেকসই করার দাবি জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজারের নিবার্হী প্রকৌশী প্রবীর কুমার গোম্বামী বলেন, পূর্ণিমার জোয়ারে বেঁড়িবাধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে মাতারবাড়ি ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি।
রকিয়ত উল্লাহ//এমআর/

No comments

Powered by Blogger.