Advertisement


মহেশখালীর ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি; করোনা টেস্টে অনীহা

রকিয়ত উল্লাহ।। বর্তমানে মহেশখালীর প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত অবস্থায় আছে হাজার হাজার মানুষ। আবহাওয়ার পারদ নামতেই ভাইরাস ইনফ্লুয়ের কারণে ঠাণ্ডাজ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথায় আক্রান্তের হার বেড়েছে। অনেক সময় এ ধরনের উপসর্গ থাকা রোগীদের করোনা টেস্ট করালেই পজিটিভ আসছে। কিন্তু অনীহার কারণে টেস্ট করাতে যাচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। উপসর্গ থাকলেও শনাক্ত না হওয়ায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলার গোরকঘাটা, কুতুবজোম, হোয়ানক, কালারমার ছড়া, মাতারবাড়ি ,শাপলাপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি প্রকোপ বেড়েছে বলে সূত্রের তথ্য। অসুস্থরা চিকিৎসা নিতে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার থেকে শুরু করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রেও রোগীর ভিড় করছে। অনেক সময় যাদের করোনা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তাদেরকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টেস্টের জন্যও পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় পর্যায়ের চিকিৎসকরা।  

শাপলাপুরের বাসিন্দা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা বেগম জানান- করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে এসেছি। এরমধ্যেই গত দুই দিন ধরে জ্বর, কাশিতে ভুগছি। প্রথমে বাবা থেকে শুরু করে পরে মা, বোন, ফুফিসহ বাড়ির ৬ জন থেকে জ্বর। ওষুধ খেয়েও জ্বর সারতেছে না। 

একই ভাবে কালারমার ছড়ার উত্তর নলবিলার এনজিওকর্মী আকলিমা সোলতানা জানান, বাড়িতে সবার জ্বর। অতিরিক্ত জ্বরের কারণে কাজও যেতে পারছি না। এলাকার প্রতিটা ঘরে ঘরে জ্বরের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে তথ্য দেন এ এজিওকর্মী। 

এদিকে মহেশখালীর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফেসবুক ওয়ালে অনেকে নিজের ও পরিবারের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পোস্ট দিচ্ছেন। ছোট মহেশখালীর সংবাদকর্মী তারেক আজিজ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সকলের কাছে দোয়া চেয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পোস্ট তিনি উল্লেখ করেন -হঠাত্ করে যেদিকে শুনি সবার জ্বর আর জ্বর। এটি কি আবহাওয়া জনিত কারণে নাকি অন্য কারণে বোঝা মুশকিল।

এদিকে হঠাত্ করে রোগের এমন বিস্তারে গ্রামের ফার্মেসি ও ‘ডাক্তারের দোকান’গুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। কালারমার ছড়া উত্তর নলবিলা বড়ুয়া বাজারের ফার্মেসির দোকানদার তপন বড়ুয়া জানান- এলাকায় হঠাত্ জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। 

সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী শেখ মোহাম্মদ জানান- ঘরে ঘরে ঠাণ্ডা-জ্বর-সর্দি-জ্বরে আক্রান্তের হার বাড়ছে। অনেকের কাশিও রয়েছে। যাদের করোনার রক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদেরকে করোনা টেস্ট করার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মাহফুজুল হক জানান- মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও  প্রতিদিন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাদের  করোনার উপসর্গও দেখা দিচ্ছে তাদেরকে করোনার টেস্ট করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনা ডেল্টার সংক্রমণ বৃদ্ধি তবে ওমিক্রনও হানা দিচ্ছে।  তাই উপসর্গ দেখা দিলে টেস্ট করেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করার অনুরোধ করেন।  

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অ্যানালাইসিস’-এর গবেষণায় ওমিক্রনের সাধারণ উপসর্গ  প্রকাশ পায় সেগুলো হলো কাশি, অত্যধিক ক্লান্তি, নাক বন্ধ এবং নাক দিয়ে পানি পড়া অন্যতম। এ ছাড়াও হালকা জ্বর, ঘামাচি, শরীরে ব্যথা, অতিরিক্ত ঘামও দেখা দিতে পারে। ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীদের বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, খিদে হ্রাস পাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মাথাব্যথা, গলা চুলকানো বা গলা জ্বালা ভাবও রয়েছে। মহেশখালীতে সম্প্রতি আক্রান্তদের মধ্যে এ সকল উপসর্গ বেশ উপস্থিত বলে জানা যাচ্ছে।