মারুফ উদ্দিন।। দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১২ বছরের এক কিশোর জেলে। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
নিহত জেলেরা হলেন কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী এলাকার জশির আলমের পুত্র ও ট্রলারের মাঝি এহেছান (২৫) এবং আলী আকবর ডেইল এলাকার বাসিন্দা লেড়ু। এখনো নিখোঁজ রয়েছে একই এলাকার মাহামুল করিমের পুত্র কিশোর জেলে মো. ফয়সাল (১২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী এলাকার কামাল কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার সাগরে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মাছ ধরার এক পর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে মাঝি-মাল্লাসহ মোট ১১ জন জেলে ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর আটজন জেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নিখোঁজ হন। নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলে ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি শুরু করেন। পরে ৯ জানুয়ারি ভোররাতে নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে কিশোর জেলে মো. ফয়সালের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ট্রলারটির মালিক মো. কামাল সওদাগর জানান, তার মালিকানাধীন ট্রলারটি নিয়মিত মাছ ধরতে সাগরে যায়। দুর্ঘটনার সময় কীভাবে ট্রলারটি ডুবে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ কিশোর জেলেকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক বলেন, ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুই জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি। একজন কিশোর জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
এদিকে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ কিশোর জেলের সন্ধান দ্রুত মিলবে বলে আশায় দিন গুনছেন তার স্বজনরা।
