যুবদলের কমিটিতে একই পদে দুই খোরশেদ বিতর্ক


বার্তা পরিবেশক◾দুই বছর অপেক্ষার পর ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিকে কেন্দ্র করে ‘সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক’ পদের মনোনীত ‘খোরশেদ আলম’-এর প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একই নামের আড়ালে এক নেতার রাজনৈতিক ত্যাগ ও জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ব্যবহার করে অন্যজনকে পদ পাইয়ে দেওয়ার এক ‘প্রক্সি কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ উঠেছে দলের ভেতরে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের সাবেক তিন নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন— সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিবুল আহসান পাপ্পু এবং সহ-সম্পাদক (ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক) আব্দুল কুদ্দুস।

কমিটি ঘোষণার পরপরই ‘সহ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক’ পদের খোরশেদ আলমের পরিচয় নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। মূলত নোয়াখালী অঞ্চলের অন্য এক খোরশেদ আলমকে এই পদের আসল দাবিদার হিসেবে একটি মহলের জোর প্রচারের পর এই বিতর্কের সূত্রপাত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪-৫ মাস আগে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বায়োডাটা সংগ্রহের সময় চবি ছাত্রদলের সাবেক পদধারী নেতাদের মধ্যে একমাত্র কক্সবাজারের মহেশখালীর বাসিন্দা খোরশেদ আলমই নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন। চবি ছাত্রদলের সমসাময়িক অন্য দুই পরিচিত মুখ খোরশেদ আলম কুতুবী ও অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম কেউই কোনো বায়োডাটা জমা দেননি।

মহেশখালীর খোরশেদ আলমের অভিযোগ, একটি বিশেষ সিন্ডিকেট তাঁর চবি ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘ ত্যাগ ও বায়োডাটা ব্যবহার করে নোয়াখালীর অন্য এক খোরশেদ আলমকে চবির সাবেক ছাত্রনেতা সাজিয়ে এই পদে বসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ উক্ত ব্যক্তি চবিতে কখনো ছাত্রদল করেননি, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

সাংগঠনিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চবি ছাত্রদলের সংকটকালীন সময়ে গঠিত ৪টি কমিটিতেই মহেশখালীর খোরশেদ আলম যথাক্রমে ১নং যুগ্ম সম্পাদক, ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, চবি ছাত্রদলের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের কেউই নোয়াখালীর খোরশেদের ছাত্রদল করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে এমন পরিচয় বিভ্রাট ও সাবেক শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে এখন কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে তৃণমূল।