কক্সবাজারে তিন নারীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ রেশমি খুন: নেপথ্যে পরকীয়া ও লেনদেনের গুঞ্জন ​


নিজস্ব প্রতিবেদক◾কক্সবাজার শহরে এবার প্রকাশ্য তিন নারীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সানজিদা প্রকাশ রেশমি (২৮) নামের এক ডিভোর্সি নারী খুন হয়েছেন। রাতে শহরের টেকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেশমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এক সন্তান নিয়ে টেকপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় বড় বাজারের ব্যবসায়ী শফি আলম সওদাগরের স্ত্রীসহ তিন নারীকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের বড় বাজারের 'শফিক স্টোর'-এর মালিক শফি আলম সওদাগরের স্ত্রী আরও দুই নারীকে সাথে নিয়ে টেকপাড়ায় নিহত রেশমির ভাড়া বাসায় যান। সেখানে রেশমির সাথে তাদের তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শফি আলমের স্ত্রী নিজের সাথে আনা ধারালো ছুরি দিয়ে রেশমির গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। রেশমির আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হামলাকারী তিন নারীকে ঘরের ভেতর আটকে ফেলে পুলিশে খবর দেয়।

​গুরুতর আহত রেশমিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় সমাজসেবক ও ঠিকাদার রিয়াদ। তিনি জানান, "হাসপাতালে রেশমির পাশে কোনো আত্মীয়-স্বজন ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে চট্টগ্রামে স্থানান্তরের জন্য লাইফ সাপোর্টসহ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু সমস্ত ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স রেডি করে গাড়িতে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জরুরি বিভাগেই তাঁর মৃত্যু হয়।" কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর মূল কারণ।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড় বাজারের ব্যবসায়ী শফি আলম সওদাগরের সাথে নিহত রেশমির দীর্ঘদিনের একটি আর্থিক লেনদেন ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তাদের মধ্যে একটি অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত এই পরকীয়া ও আর্থিক বিরোধের জেরে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে শফি আলমের স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে অন্য নারীদের সাথে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানান, "হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যবসায়ী শফি আলমের স্ত্রীসহ আটক তিন নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক সূত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"