মাতারবাড়ি বন্দর সংযোগ সড়ক: বালুতে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক◾মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট অ্যাক্সেস রোড) নির্মাণ প্রকল্পে বালু উত্তোলন ও বিক্রির নামে শত শত কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন দায়ের করা এই রিটে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং বালুর অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরে "বালুতেই ঠিকাদারের পকেটে যাবে ৪৫০ কোটি টাকা" শিরোনামে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এ রিট আবেদনটি করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালুর ভিত্তিমূল্য বা রয়্যালটি ৬ টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং ব্যয় বাবদ ৪ টাকা ৫৭ পয়সা কর্তন করেছে। এর ফলে প্রতি ঘনফুট বালুর কার্যকর মূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ টাকা ৩৭ পয়সা। ড্রেজিং ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পেয়েছে এবং রাষ্ট্র প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

আইনজীবী সোহানা শারমিন রিটে উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ঠিকাদার নিজস্ব ব্যয়ে ড্রেজিং ও বালু উত্তোলনের কাজ সম্পন্ন করে এবং সরকার চুক্তি অনুযায়ী তাদের কাজের বিল পরিশোধ করে। কিন্তু এই প্রকল্পে বালুর মূল দাম থেকেই ড্রেজিং ব্যয় সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় আয় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থ ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

এছাড়াও ‘বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বালু বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার বিধান থাকলেও, কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই বিশাল সুবিধা দিয়ে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, প্রকল্পে বালুর প্রয়োজনীয়তা আরও কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় পরবর্তীতে একই কায়দায় আরও বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, "রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।" জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটে বিতর্কিত মূল্য নির্ধারণের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।