নিজস্ব প্রতিবেদক◾মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সরকারি হাসপাতাল) সংলগ্ন বেসরকারি ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী দালাল চক্র। এই 'রোগী শিকারি' দালালদের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা। মূলত ওষুধ কেনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতাল থেকে রোগীকে বাইরে নেওয়া এবং ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) নিয়ে টানাটানি করাই এই চক্রের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও দ্বীপ অঞ্চল থেকে শত শত অসহায় মানুষ চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে আসেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পা রাখতেই তাদের ঘিরে ধরে একদল দালাল। সরকারি চিকিৎসকদের ভুল বুঝিয়ে বা হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীকে বাইরের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়াই এদের মূল লক্ষ্য।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালরা চিকিৎসকের কক্ষের সামনে, জরুরি বিভাগে এবং হাসপাতালের প্রধান ফটকে ওৎ পেতে থাকে। ডাক্তার কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) দিলেই সেই প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে টানাটানি শুরু করে তারা। সরকারি ল্যাবে পরীক্ষা না করিয়ে জোরপূর্বক রোগীদের বাইরের ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া কোন প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতে হবে, তা নিয়েও চলে টানা হেঁচড়া। বিনিময়ে ওইসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসি থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন পায় এই চক্রটি। অনেক সময় বাইরের ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত মূল্যে নিম্নমানের ওষুধ কিনতেও বাধ্য করা হয় রোগীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী জানান, দালালদের বাধা দিলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে চড়াও হয় এবং সাধারণ রোগীদের হেনস্তা করে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ল্যাব ও ফার্মেসি মালিকদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং দালালদের এই বর্বরোচিত সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
