প্রেস বিজ্ঞপ্তি◾বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার-এর উদ্যোগে "বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা ও গবেষণা প্রস্তাবনা চূড়ান্তকরণ" শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, প্রজনন প্রযুক্তি ও নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে ৯টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।
ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সমুদ্রনির্ভর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমার নীল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হলে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির প্রসারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে খাঁচায় মাছ চাষ, সামুদ্রিক শৈবাল (সী-উইড) চাষ এবং কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যচাষী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে যেসব আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন, তা যেন মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়- সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর দিতে হবে।
কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক। তিনি সমুদ্রনির্ভর নীল অর্থনীতিতে কেন্দ্রের গবেষণার অবদান ও চলমান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো: লতিফুল ইসলাম।
কর্মশালার দুটি কারিগরি সেশনে ব্লু-ইকোনমির টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত ৩টি নতুন প্রকল্পসহ মোট ৯টি কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। নতুন প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- সামুদ্রিক হ্যাচারি শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তিতে ফিড তৈরি, স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করে উপকূলের পটেনশিয়াল ফিশিং জোন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নির্ণয় এবং কোরাল মাছের হ্যাচারি পর্যায়ে পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, জেলা-উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, হ্যাচারি মালিক, সফল মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন।
