পারভেজ আহামদ বাবু। মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিনি। হোয়ানক ইউনিয়রনের ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ ও সাবেক সাংসদ মরহুম মোঃ ইসহাক বি.এ’র পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরী।
তার জেঠা সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, চাচাদের মধ্যে জাফর আলম জফুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, খোরশেদ আলম খুশী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এক সময় চটগ্রামে ছাত্রলীগের মাঠের রাজনীতি করতেন বাবু। পরে মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ায় খুব অল্প দিনের মধ্যে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে একটি শক্ত স্থান দখল করতে সক্ষম হন। মনোনিত হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সদস্য। প্রতিযোগিতায় নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। নিজের রাজনীতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আলাপ করেছেন সাংবাদিক শাহেদ মিজান

প্রশ্ন: আপনার রাজনীতির শুরুটা যদি বলতেন।
পারভেজ আহামদ বাবু: আমি একজন আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমার শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকায় রাজনীতির চেতনা প্রবাহমান। আমি দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জড়িত। চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন রাজনীনিতি করেছি। তখন সব সময় মাঠে-ময়দানে কাজ করেছি। মহেশখালীর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়ি। জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর জেলা ছাত্রলীগের শ্রদ্ধেয় অভিভাবকবৃন্দ আমাকে মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করেছেন।

প্রশ্ন: মহেশখালী ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি নিয়ে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: দীর্ঘ ত্যাগ-তিতীক্ষার কাটিয়ে ১৯ পর ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হালিমুর রশিদকে সভাপতি এবং আমাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের অভিভাবক ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিম। আমরা এখন দলকে গোছানোর জন্য কাজ করছি। আগামী দিনগুলোতে পরিবর্তন এবং দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী নৌকার বিজয় তরান্বিত করতে আমাদের অভিভাবক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিমের দিকনির্দেশনায় কাজ করার আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগকে আরো সংগঠিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি।

প্রশ্ন: উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
পারভেজ আহামদ বাবু: উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসায় সুশৃঙ্খলভাবে কমিটি দিয়ে পুরো উপজেলা ছাত্রলীগকে গোছানো হবে। এক্ষেত্রে জেলা ছাত্রলীগের দিকনির্দেশনাই মূখ্য থাকবে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন ইউনিট কমিটিবিহীন থাকায় অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। আমরা চলতি মাসের মধ্যেই সব কমিটি পুর্নগঠন করে ছাত্রলীগে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবো। এর মাধ্যমে মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগে বিগত ১৯ বছরের ইতিহাসকে আরো তরান্বিত করবো। জেলা ছাত্রলীগের সৃজনশীল কর্মসূচীতেও আমরা অংশ নিবো।

প্রশ্ন: আগামী নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের প্রস্তুতি কেমন?

পারভেজ আহামদ বাবু: আওয়ামী লীগ বৃহৎ সংগঠন। তাই নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে। যে-ই নৌকার প্রার্থী মনোনিত হবে মহেশখালী ছাত্রলীগ তার পক্ষে কাজ করবে। তবে শেখ হাসিনার প্রতিনিধি আশেক উল্লাহ রফিক বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন। তাই তাঁর জন্য কাজ করছি। কিন্তু সামনে নির্বাচন। আওয়ামী লীগ বৃহৎ দল হিসেবে নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে। ব্যক্তি বিশেষ নয়; নৌকাকে প্রাধান্য ছাত্রলীগ কাজ করবে। আমরা সুন্দর প্রতিযোগিতা আশা করি। আমরা বিভক্তি চাই না। মুজিব আদর্শে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে না

প্রশ্ন:  উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হবে?
পারভেজ আহামদ বাবু: আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাথে সমন্বয় করে উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তৃণমূল থেকেও নেতৃত্ব নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ত্যাগী, শিক্ষিত পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব এবং পারিবারিক রাজনীনিতিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। কোনো ত্যাগী নেতা বাদ যাবে না। বিএনপি-জামায়াত পরিবারের কাউকে এবং সুবিধাবাদীদের স্থান দেয়া হবে না। কোনো স্বজনপ্রীতি হবে না; যোগ্যরাই নেতৃত্বে আসবে। এক্ষেত্রে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দের পরামর্শও নেয়া হবে। আমরা সব সময় তাদেরকে পাশে চাই।

প্রশ্ন: আপনাদের কমিটি নিয়ে একটি বিভক্তি দেখা গেছে, সে সম্পর্কে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: আওয়ামী লীগ যেমন একটা বৃহৎ সংগঠন; ছাত্রলীগও তেমনি একটা বৃহৎ সংগঠন। এতে তুমুল প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই আমাদের মধ্যে ছোট-খাটো ব্যক্তি সংঘাত থাকতে পারে। এটা তেমন কোনো বিষয় না। আমাদের মধ্যে সাংগঠনিক কোনো বিভক্তি নেই। তারাও মুজিব আর্দশের সারথী। আমরা তাদেরকে কোনো ধরণের অবমূল্যায়ন করবো না। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদেরকে সম্মানজনক পদ দেয়া হবে। তারা অনেক সম্ভাবনাময়ী নেতৃত্ব। জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়ার মতো যোগ্য তারা। তাই জেলা কমিটিসহ উচ্চ পর্যায়ে তারা আরো বড় নেতৃত্ব পাক সেটা আমরা চাই। এই জন্য তাদের প্রতি আমাদের শুভ কামনা সব সময় থাকবে। দিন শেষে আমরা সবাই ছাত্রলীগের আদর্শিক কর্মী- এটাই বড় কথা।

প্রশ্ন:  আপনাদের পথচলার পাথেয় সম্পর্কে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: ছাত্রলীগ নিজস্ব স্বকীয় সংগঠন। তাই ব্যক্তি বিশেষ বড় নয়। জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশেই আমরা পথ চলবো। তাদের নির্দেশে আমরা নৌকার জন্য কাজ করবো। সেক্ষেত্র অন্যান্যদের পরামর্শ নিয়ে আমরা সংগঠন দৃঢ়তার সাথে পরিচালনা করবো।

প্রশ্ন:  উপজেলা ছাত্রলীগ নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে, এটা সম্পর্কে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: ছাত্রলীগ নিয়ে যারা অপপ্রচার করে আমি মনে করি তারা ছাত্রলীগ নয়। যারা দ্বন্দ্ব, আত্ম-অহংকার বা বিভিন্ন প্রকার কলা-কৌশল নিয়ে ছাত্রলীগের অপপ্রচার চালায় তাদেরকে আমি ছাত্রলীগ বলে মনে করি না। তারা সুবিধাবাদী এবং এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। নিজের সুবিধার জন্য ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন করা বড় অন্যায়। আর তারা যদি ছাত্রলীগ হয়ে থাকে তাহলে তারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছে। আমরা তাদের বোধোদয়ের আশার করছি। তাদের প্রতি অনুরোধ ছাত্রলীগ নিয়ে অপপ্রচার থেকে দূরে থাকুন। কারণ আমাদের সবার একমাত্র আদর্শ বঙ্গবন্ধু। ছাত্রলীগ করলে অভিভাবকদের সম্মান করতে হবে। জেলার নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। ওরা নেতৃত্বে আসলে আমরা ওদের অভিনন্দন জানাতাম।

প্রশ্ন: তাদের ব্যাপারকে কি করতে পারেন?
পারভেজ আহামদ বাবু: বিভক্তি সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধে উপজেলা ছাত্রলীগ মাঠে থাকবে। কোনো রকম অপ-এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীকে ছাড় দেয়া হবে না। কেউ বিভক্তি করলে জেলা নেতৃবৃন্দকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাই। একই সাথে ছাত্রলীগে কেউ সংগঠন বিরোধী, উগ্রতা-সন্ত্রাসের জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।

প্রশ্ন: সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বজুড়ে উন্নয়নের রোলমডেল। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নে ভরপুর করে তুলেছেন। দেশকে নিন্মমধ্যম আয়ের দেশের রূপান্তি করেছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হবে। সে লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সরকারের এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড রাজপথে, অনলাইনে এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ বদ্ধপরিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিমুহূর্তে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রতিটি নেতাকর্মীদেরও সেই নির্দেশ দিচ্ছি। আমাদের ছবি পোস্ট করার দরকার নেই। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়া দেশরতœ শেখ হাসিনার প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য বলছি।

প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।
পারভেজ আহামদ বাবু: রাজনীতি যার শিরা-উপশিরায় থাকে রাজনীতির ভিতর দিয়েই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। রাজনৈতিক পরিবারের একজন উত্তরসূরী হিসেবে আজীবন রাজনীতিটাকে লালন করে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় রাজনীতি করে যেতে চাই। ভবিষ্যতে একজন জনসেবক হতে চাই।

শাহেদ মিজান: ধন্যবাদ আপনাকে।
পারভেজ আহামদ বাবু: আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার সাক্ষাতকারটি নেয়ার জন্য।
শেয়ার:

মন্তব্য দিন:

0 comments so far,add yours