-->
কালারমার ছড়ায় নির্মাণাধীন সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রতিবাদ

কালারমার ছড়ায় নির্মাণাধীন সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রতিবাদ


রকিয়ত উল্লাহ।।

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে RHD সড়ক নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন ফের চতুর্থ বারের মত নির্মাণাধীন সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে প্রতিবাদ ।  জানা যায় , মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন ১৪শত একর জমির আওতাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরাসরি যোগাযোগের জন্য কালারমারছড়ার উত্তর নলবিলা (আফজলীয়া পাড়ার) পশ্চিমে নয়াকাটা ঘাট হয়ে ব্রীজের মাধ্যমে কোহেলীয়া নদীর উপর দিয়ে সংযুক্ত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ । এতে বদরখালী পুরাতন স্টেশন থেকে চালিয়াতলী , উত্তর নলবিলা হয়ে আফজলীয়া পাড়ার উপর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন সড়ক । এই সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে বিগত দুই বছর আগে থেকে । কিন্তু অনেকে জমির অধিগ্রহণের টাকা পেলেও এখনো অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন তাদের জমির ক্ষতিপূরণ পায় নি । এমন কি উক্ত সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মীর আকতার হোসেন কনস্ট্রাকশন লিঃ কোন বাঁধা ছাড়াই কাজ চালিয়ে গেলেও এখনো অনেক জমির মালিকগন তাদের জমির ক্ষতিপূরণের কোন টাকা পায় নি । এতে জমির অধিগ্রহণের টাকা ও ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় তিন দফায় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন । সর্বশেষ গতকাল ১০ মার্চ (বুধবার) ভোর ৬টায় ফের চতুর্থ বারের মত উক্ত চলমান কাজে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানান ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন । এদিকে গত ২৮জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার সময় কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা আফজলীয়া পাড়া মীর আকতার হোসেন লিঃ এর ক্যাম্পে অবস্থিত RHD অফিসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সাথে গণশুনানী করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ । এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সাথে দ্বীর্ঘ ৪ঘন্টা ব্যাপী গণশুনানী করেন । এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের অভিযোগ মনযোগ সহকারে ধৈর্যের সহিত শুনেন । এবং জমির মালিকদের যে সমস্ত আদালতে মামলা রয়েছে তা স্থায়ী ভাবে চেয়ারম্যান তারেক শরীফ কে নিয়ে মিমাংসা করার জন্য পরামর্শ দেন । অন্যতায় কারো ফাইলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকাকালীন কাউকে চেক দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি । এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বিরোধকৃত খতিয়ানের জমির মালিকদের কে চেক দেওয়া হবে না বলে জানালেও ৩৭ নং খতিয়ানের উপর আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্তেও কিছু কিছু ব্যাক্তিদের চেক প্রদান করায় হতাশ হয়েছেন প্রকৃত জমির মালিকগন । ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক গিয়াস উদ্দিন জানান , ৩৮ নং খতিয়ানে আমাদের অভিযোগ থাকা সত্তেও কি ভাবে চেক উত্তোলন করতে পারে? তিনি বলেন এই একই খতিয়ানে আমাদেরও ফাইল জমা রয়েছে , আমরা কেন এসব ফাইলের চেক পাচ্ছি না । এই খতিয়ানে বর্তমানে যাদের চেক দেওয়া হচ্ছে ,

নিশ্চয় এ চেকে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে মনে করেন তিনি । এতে প্রকৃত জমির মালিকগন ক্ষুব্ধ হয়ে আবারো সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলেও জানান স্থানীয় জমির মালিকগন । ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগন জানান , কিছু ব্যাক্তিরা তাদের চেক পেলে আমরা কেন পাব না?  এব্যাপারে আমরা মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে অতিদ্রুত আমাদের জমির অধিগ্রহণের চেক দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি । কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানান , সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে চলমান উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা যাবে না । জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে অনেককে চেক দিয়েছেন , আর যারা এখনো চেক পায়নি এবং এসব চেকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই তারাও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চেক পাবেন বলে জানান তিনি । মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন , ডিসি অফিসে যে মামলা গুলো নিষ্পত্তি হয়েছে এদের মধ্যে কিছু কিছু চেক  বিতরণ করা হচ্ছে । আর যেসব খতিয়ানের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ রয়েছে সে সব জমির মালিকদের কে চেক দেওয়া হচ্ছে না । তারা উভয় পক্ষের মধ্যে মামলার বিরোধ নিষ্পত্তি হলেই তাদের কে চেক দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি । তবে সড়কে ব্যারিকেটের ব্যাপারে (ইউএনও) জানান , এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

শিরোনাম ছিলো.. "কালারমার ছড়ায় নির্মাণাধীন সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রতিবাদ "

Post a Comment

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel