মহেশখালীতে সহযোগী অধ্যাপক ডা. অহিদুল হেলালের বাড়িতে হামলা; পরিবারকে জিম্মি করার অভিযোগ

ঈদের আগের দিন সালাম বাহিনীর তাণ্ডব; প্রাণরক্ষায় ঘরে লুকালেন নারী ও শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অহিদুল হেলালের পৈত্রিক বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের জেরে বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জনৈক আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ও অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা এ সময় ডা. অহিদুল হেলালের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে নারী ও শিশুদের ওপর চড়াও হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হোয়ানকের পানিরছড়া এলাকায় ডা. অহিদুল হেলালের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষ আব্দুস সালাম গং-এর দীর্ঘ দিন ধরে বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে আব্দুস সালাম ও তাঁর অনুসারীরা দীর্ঘকাল ধরে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দিয়ে আসছিল। বুধবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পৈত্রিক বাড়িতে পশু জবাই করার জন্য একটি অস্থায়ী শেড বা ছাউনি তৈরি করতে গেলে আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক অতর্কিত এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ডা. অহিদুল হেলালের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা গেট ভেঙে বসতবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে বাড়ির নারী ও শিশুরা আত্মরক্ষার্থে ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতরে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এই বিষয়ে ডা. অহিদুল হেলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত থাকলেও বাড়ির অন্য সদস্যরা ঈদ উপলক্ষে পৈত্রিক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা পশুর কোরবানির জন্য একটি অস্থায়ী শেড তৈরি করার সময় কোনো উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে। পবিত্র ঈদের আগের দিন অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে এই ভূমিদস্যু চক্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আমি প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইতিপূর্বে একাধিক সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষ কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেনি।

ঘটনার পর পরই মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি অবহিত করা হলে থানা থেকে দ্রুত একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকের বাড়িতে হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে, একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের বাড়িতে পবিত্র ঈদের আগমুহুর্তে এমন ন্যাক্কারজনক ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মহেশখালী ও কক্সবাজারের সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।