কালারমার ছড়ায় মধ্যরাতে পৈশাচিকতা: গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় দম্পতিকে কুপিয়ে জখম

আঁধারঘোনায় চাঞ্চল্য; জনতার হাতে আটক অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ 


মাহবুব রোকন ও শাহরিয়ার কবির।। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নে নিশুতি রাতে এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। বসতবাড়িতে ঢুকে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং এতে বাধা দেওয়ায় ওই দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্ত। বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউনিয়নের আঁধারঘোনা পশ্চিম পাড়া এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ হায়াতকে (২৩) হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- আঁধারঘোনা এলাকার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ কামরুল হাসান (৩০) এবং তাঁর স্ত্রী আঁখি (২৩)। অন্যদিকে, ধৃত হামলাকারী মোহাম্মদ হায়াত একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। স্থানীয় পর্যায়ে সে ‘হাইত্তা চোরা’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গভীর রাতে কামরুল হাসানের বসতবাড়িতে ওত পেতে থাকা হায়াত কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে। সে পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আঁখিকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই নারী ও তাঁর স্বামী বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে হায়াত চরম হিংস্র হয়ে ওঠে। সে সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে ওই দম্পতিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে কামরুল হাসান ও তাঁর স্ত্রী শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁদের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসলে হায়াত পালানোর চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসী তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ধাওয়া দিয়ে আটক করতে সক্ষম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

খবর পেয়ে কালারমার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু আহমদ ভোর ৪টার দিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত পৈশাচিক। হায়াত এলাকায় চিহ্নিত চোর এবং ইয়াবাসেবী হিসেবে পরিচিত। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহেশখালী থানা পুলিশকে অবহিত করি এবং আটক ব্যক্তিকে তাঁদের নিকট সোপর্দ করি। প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।” এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান মি. আবু আহমদ। 

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত হায়াতকে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একটি সাধারণ বসতবাড়িতে ঢুকে গর্ভবতী নারীর ওপর এমন পাশবিক হামলা ও জখম করার ঘটনায় পুরো কালারমার ছড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার এবং এলাকায় মাদকের আখড়া ও চোরদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।