বিদ্যালয়ের সীমানা সংলগ্ন বাসিন্দা ও সচেতন অভিভাবক নূর মোহাম্মদ কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর সম্প্রতি একটি লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তে নেমেছে শিক্ষা অধিদপ্তর।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম ২০১৮ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত ৭ বছরে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার বাবদ বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা কোনো কাজ না করে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা হারে ৭ বছরে আসা মোট ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিদ্যালয় উন্নয়ন অনুদান (এসএমসি ফান্ড) এবং প্রতি বছর ওয়াশ ব্লক মেরামতের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার টাকা অন্যতম। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটি বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া কোমলমতি শিশুদের খেলনা সামগ্রী বাবদ ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ৩০-৪০ হাজার টাকার অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী কিনে বাকি টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে খেলনাগুলো উদ্বোধনের পরপরই ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। শিশু শ্রেণীর জন্য প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোনো কার্পেট বা আধুনিক শিক্ষা উপকরণ কেনা হয়নি; উল্টো ৭-৮ বছরের পুরোনো নোংরা চটের বিছানায় বসে শিশুরা ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
এমনকি বিদ্যালয়ের মাঠের বড় বড় ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কেটে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় কালোবাজারে বিক্রি এবং জাতীয় দিবস উদযাপনের সরকারি তহবিল আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক এই বিশাল কেলেঙ্কারির পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও একটি মারাত্মক ও স্পর্শকাতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র এবং সচেতন মহলের দাবি, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে এ এলাকায় অবৈধভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি সহায়তা ও সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন। এই রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নকারী অভিযোগটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তাঁর চরম অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র উঠে এসেছে। অভিভাবকের প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না এবং কোনোদিন আসলেও শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করে স্কুল চলাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে সময় পার করেন। তাঁর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেন কেউ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, সেজন্য তিনি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএসসি) এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি (পিটিএ)-কে সুকৌশলে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে রেখেছেন।
বর্তমানে এই ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি ও রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দুর্নীতিগ্রস্ত এই প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফোন রিসিভ না করায় এই প্রতিবেদনে তাঁর মন্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
