মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতেই চলছে কক্সবাজার জেলা চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কালেক্টরেট সমিতির কার্যক্রম

বার্তা পরিবেশক◾কক্সবাজার জেলা চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কালেক্টরেট সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করায় সমিতির ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। চলমান এই অচলাবস্থার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের একমাত্র এই ফোরামটির নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সমিতির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটির নির্ধারিত আইনি মেয়াদ গত ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। অথচ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বর্তমান নেতৃত্ব নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এখনো কোনো কার্যকর আলোচনা বা প্রস্তুতি শুরু করেনি। 

নেতৃবৃন্দের এমন উদাসীনতাকে সমিতির সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও বিধিমালার চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন ফোরামের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা।

নেতৃত্বের এমন রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ সদস্যরা জানান, একটি গণতান্ত্রিক সংগঠনে যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অবিলম্বে বর্তমান কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি তুলছেন। অন্যথায় সাধারণ কর্মচারীদের অধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত শৃঙ্খলা বজায় রাখা ভবিষ্যতে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে তারা তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা এখন বিকল্প ভাবছেন। তারা বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে অতি দ্রুত একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের স্পষ্ট চাওয়া, এই সভার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ সদস্য জানান, কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করাই এখন একমাত্র সমাধান। নতুন এবং নিরপেক্ষ আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে তা সমিতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে। অন্যথায় সাধারণ কর্মচারীদের এই দীর্ঘদিনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং পেশাগত সংগঠনটি বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।