তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগসমূহ: বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের আজীবন দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতির দাখিলকৃত একটি লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সুদীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল বিষয়গুলো হলো-
আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম: সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে রফিকুল ইসলামের নিয়োগ-সংক্রান্ত অযোগ্যতার পাশাপাশি প্রশাসনিক নীতিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে।
শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ: ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা বোর্ডের বিধিবহির্ভূতভাবে ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অসহযোগিতা: দায়িত্বশীল পদে থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বিরূপ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং স্বয়ং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে তাঁর চরম অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
অফিস আদেশের পর্যবেক্ষণ: তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, রফিকুল ইসলামের মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব বহাল রাখা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী। এই জনস্বার্থমূলক বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর নির্বাহী আদেশে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেন।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি, তদন্তে প্রমাণিত হওয়া নিয়োগ-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও আর্থিক আত্মসাতের বিষয়ে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুরো নথিপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, মাতারবাড়ির একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন নৈতিক স্খলন ও বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষিত ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টির সুদীর্ঘ ইতিহাসে এ ধরনের নজিরবিহীন দুর্নীতি ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি, যা জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে।
