পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বড় মহেশখালীর কৃতী সন্তান রাশেদুল হক খোকন


বিশেষ প্রতিবেদক◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফিলোসফি অব ডক্টর (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ও কক্সবাজারের মহেশখালীর কৃতি সন্তান রাশেদুল হক খোকন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন অনুষদের ৭৩ জন গবেষককে পিএইচডি এবং ৯ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়। 

যার মধ্যে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নইম সুলতানের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা “সালিশ ও মানবাধিকার: বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ পরিপ্রেক্ষিত” শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য রাশেদুল হক খোকনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কেবল শিক্ষাবিষয়ক গবেষণাতেই নয়, ড. রাশেদুল হক খোকন দেশের আইন অঙ্গনেও এক পরিচিত ও সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

পেশাগত জীবনে তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধ, পরিবেশ রক্ষা, রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক বিধি-বিধান প্রণয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত রিটসহ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক বহু গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে সাফল্য পেয়েছেন। আইন ও বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

ড. রাশেদুল হক খোকন মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর বাবা একরামুল হক একজন ব্যবসায়ী এবং মা নুরুন্নাহার বেগম গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর ছোট ভাই এমরানুল হক জনি একজন ব্যাংকার এবং অপর ভাই তৌফিকুল হক সম্রাট জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

তিনি ১৯৯৮ সালে মহেশখালী আইল্যান্ড হাই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি এবং ২০০০ সালে মহেশখালী কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ঐতিহ্যবাহী স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট লাভ করে সরাসরি আইন পেশায় যুক্ত হন।

পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলের জনক। তাঁর স্ত্রী রীমা খাতুন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত এবং একমাত্র সন্তান রাইদ হক সাম্য ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত।

উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের এ গবেষণা সম্পন্ন করায় এবং সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে মহেশখালীর মুখ উজ্জ্বল করায় ড. রাশেদুল হক খোকনকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন মহেশখালীর সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ। বিজ্ঞ গবেষণার মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার ও গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।