আ ন ম আমিনুর রহমান ।।
অতি বিরল এবং মহাবিপন্ন বিশেষ ধরনের এক পাখির খোঁজে এ বছরের ১৬ জানুয়ারি রাত ন’টার বাসে পক্ষী আলোকচিত্রী আফজাল, শামীম ও কিসমত ভাইসহ চারজনের টিমে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লাম।

রাস্তায় কোনো যানজট না থাকায় বাস একবার যান্ত্রিক ত্রুটিতে আক্রান্ত হওয়ার পরও ভোর সাড়ে ছ’টার মধ্যে হোটেলে পৌঁছে গেলাম। কিন্তু আমাদের জন্য নির্দিষ্ট রুমটি খালি না হওয়ায় আধা ঘণ্টা লবিতেই বসে রইলাম। অবশেষে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফ্রেশ হওয়ার জন্য যেনতেন একটা রুমের ব্যবস্থা করলেন যেহেতু বেলা এগারোটার আগে আমরা রুম পাচ্ছি না।

অবশ্য এতক্ষণ অপেক্ষা করার কোনো ফুরসতই নেই আমাদের। কারণ ততক্ষণে আমরা মহাবিপন্ন পরিযায়ী জলচর পাখিটির খোঁজে নৈঃসর্গিক সৌন্দর্যের স্বর্ণ দ্বীপ বা সোনাদিয়া পথে অনেকটাই এগিয়ে যাব।

ঠিক সাড়ে আটটায় আরও দু’জন অর্থাৎ আদনান ও রিক্তা এসে যোগ দিল। ওদের নিয়ে প্রাতঃরাশের উদ্দেশ্যে বের হলাম। প্রাতঃরাশ শেষ করেই ছুটলাম কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে ফিশারি ঘাটের দিকে। ঘাটে আগে থেকেই স্থানীয় গাইড গিয়াস স্পিডবোট নিয়ে অপেক্ষা করছিল। স্পিডবোটের সারেং নুর আলম ইঞ্জিন চালু করল ঠিক দশটায়।
বাঁকখালী নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলল আমাদের স্পিডবোট মহেশখালী চ্যানেলের দিকে। ফিশারি ঘাট থেকে আমাদের পিছু নিল কিছু বদর বা খোঁয়াজকৈতর (Brown-headed gull)। পথে বারবারই দেখা হচ্ছিল এ প্রজাতির পাখির সঙ্গে। খানিক পর নদীতীরে একঝাঁক ছোট পানকৌড়িকে (Little Cormorant) বসে থাকতে দেখলাম। বাঁকখালির দুই তীরের কাদাজলে কানি বকগুলো (Pond Heron) মাছ শিকারে ব্যস্ত। ওদের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে যোগ দিচ্ছে ছোট সাদা বা কোরচে বক (Little Egret)।

কিছুদূর যাওয়ার পর নদীর দু’ধারে শুরু হল উপকূলীয় নোনাজলের গরান বন (Coastal Mangrove)। মনে হল যেন সুন্দরবনের ভেতর ঢুকে গেছি। হঠাৎ কাস্তের মতো লম্বা ঠোঁটের একটি বড় গুলিন্দা (Eurasian Curlew) উড়ে এসে নদীর বাম পাড়ে নেমে কাদার মধ্যে খাবার খোঁজায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ওর পেছনে ছোট্ট একটি পাখিকে হাঁটতে দেখলাম।

বাইনোকুলারে চোখ রাখতেই দেখি একটি ছোট টিটি জিরিয়া (Lesser Sandoplover)। স্পিডবোট এগিয়ে চলল সামনের দিকে। নদীতে ভাটা, তাই দ্রুত চলতে পারছে না।

এবার একটি ছোট গুলিন্দা (Whimbrel) নদীর ডান পাড়ে নামতেই পাঁচ পাঁচটি ক্যামেরার শাটারের শব্দে আকাশ-বাতাস যেন কেঁপে ওঠল! নদীর পানি একেবারেই কমে যাওয়ায় স্পিডবোট আর নড়ানো গেল না। সারেং নুর আলম মিনিট বিশেক অপেক্ষা করতে বলল।

স্পিডবোট যেখানে থেমে থাকল তার ঠিক সামনে বিশাল এক ব্রিজ। তবে তা যানবাহন চলাচলের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। কারণ দু’পাশের এপ্রোচ রোড বর্ষায় ভেসে গেছে।

তাই ব্রিজটিতে ওঠা-নামার জন্য লোকজন বাঁশের মই ব্যবহার করছে। অপচয়ের মাত্রা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। যা হোক বিশ মিনিট একেবারেই বেকার গেল না। ব্রিজের নিচে ছয়টি ছোট সাদা বকের সঙ্গে একটি করে কানি ও যাঠুয়া বকের (Great White Egret) দেখা পেলাম। একটি চা পাখি (Common Sandpiper) ক্যামেরার একেবারে সামনে চলে এলো।

নদীর পাড়ে দুটি মটরি (Common Redshank) খাবার খোঁজায় ব্যস্ত ছিল; কাজেই ওদেরও বেশ কাছ থেকে পেলাম। সবাই যখন ওদের ছবি তোলায় ব্যস্ত তখন আদনানের নজর গেল আকাশের দিকে। ইশারা করতেই মধুবাজটির (Oriental Honey Buzzard) দিকে ক্যামেরা তাক করে পটাপট কয়েকটি ক্লিক করলাম।
আমার ঠিক সামনে দিয়ে দ্রুত একটা পাখি উড়ে গেল। ছবি তোলার পর ঢাকা এসে দেখলাম সেটি আসলে একটি বিরল ও মহাবিপন্ন পরিযায়ী পাখি তিলা সবুজ চা পাখি (Nordmann's
Greenshank)। সোনাদিয়া ভ্রমণের প্রথম লাইফার (প্রথমবার দেখা পাখি)।
নুর আলম স্পিডবোটের ইঞ্জিন চালু করল। এবার আমরা দ্রুত চলতে শুরু করলাম। আমাদের টার্গেট সোনাদিয়া এখনও বেশ দূরে। পথিমধ্যে বড় পানকৌড়ি (Great Cormorant), লেজ নাচুনে (White-throated Fantail), কালোটুপি মাছরাঙ্গা (Black-capped Kingfisher) ছাড়াও প্রজাপতি বাজ বা ইঁদুরমারা চিলের (Long-legged Buzzard) দেখা পেলাম।

স্পিডবোট যখন মোহনার কাছাকাছি চলে এলো তখন কোনোদিন যে হাঁসের ভালো ছবি তুলতে পারিনি সেই পান্তামুখী বা কোদাইল্লা হাঁসের (Northern Shoveler) দেখা পেলাম। তবে পুরো ট্রিপে এটি ছাড়া অন্য কোনো প্র্রজাতির হাঁসের দেখা পেলাম না। এবার বেশকিছু ভালো ছবি তুলতে পারলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সোনাদিয়ায় পৌঁছে গেলাম।

সেখান থেকে একটু দূরে বিশেষ সেই পাখিটির বিচরণ ক্ষেত্র কালাদিয়ার চরে পৌঁছার আগ পর্যন্ত বড় গুলিন্দা, বদরকৈতর, বড় বদরকৈতর (Pallas's gull), পান্তামুখী হাঁস ও কয়েক প্রজাতির চা পাখির (Sandpiper) বেশ ক’টি ঝাঁকের দেখা পেলাম।

কালাদিয়ার একেবারে কাছাকাছি আসতেই একঝাঁক খোঁপাযুক্ত বৃহৎ গাঙচিলের (Great Crested Tern) সন্ধান পেলাম। ওদের ঠিক সামনে একটি কালি কাক বা ধূপনি বককে (Grey Heron) স্থির দৃষ্টিতে শিকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখলাম।

সকাল এগারোটা বায়ান্ন মিনিটে স্পিডবোট কালাদিয়া চরের পলিমাটি স্পর্শ করল। দূরে বিস্তীর্ণ জলরাশি। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। একটি পণ্যবাহী জাহাজ খানিকটা দূরে মাল খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তার আশপাশে ঝাঁকে ঝাঁকে বদরকৈতর আর গাঙচিল উড়ছে। বিস্তীর্ণ জলরাশি থেকে এক টুকরো ভূমি যেন আমাদের দিকে উঁকিঝুঁকি মারছে।

আহ কী চমৎকার সে দৃশ্য! এটাই সোনাদিয়া দ্বীপের কালাদিয়া চর। এটাই অতি বিরল ও মহাবিপন্ন বিশেষ প্রজাতির অর্থাৎ চামচের মতো ঠোঁটের খুদে পরিযায়ী পাখিটির শীতের নিবাস। এখানেই খুঁজব তাকে। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা পাখিটির দেখা পেলে জীবনটাই ধন্য হয়ে যাবে! আর না পেলে আফসোস সারাজীবনেও যাবে না। অবশ্য সঙ্গে বোনাস হিসেবে পাওয়া যাবে আরও কিছু নতুন পাখি। তবে এত পাখির মধ্যে মহাবিপন্ন সেই পাখিটিকে খুঁজে পাওয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়।

স্পিডবোট থেকে হাঁটু সমান কাদাপানিতে নেমেই আমরা ছ’জন অতি সন্তর্পণে কালাদিয়া চরের মাটিতে হাঁটতে শুরু করলাম। যেখানেই ছোট চা পাখির ঝাঁক দেখছি সেখানেই বাইনোকুলার ধরছি। চেনার চেষ্টা করছি পাখিগুলোকে; আর বিশেষ ধরনের পাখিটিকে খুঁজছি। কিন্তু কোনোভাবেই ওর দেখা পাচ্ছি না।
একটা সাদাটে চা পাখিকে অনেকক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলাম। মনে হল যেন বৈচিত্র্যপূর্ণ চামচঠোঁটের বিশেষ পাখিটিকে পেয়ে গেছি। কিন্তু না ছবি তুলে দেখি ও হল বালুবেলার চা পাখি (Sanderling)।

অনেক সময় ধরে পুরো চরের পাখির ঝাঁকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছি, কিন্তু ওর দেখা পাচ্ছি না। অবশ্য ওকে খুঁজতে গিয়ে ইতিমধ্যে পাঁচ প্রজাতির লাইফার-এর (প্রথমবার দেখা পাখি), যেমন- বড় চা পাখি বা আদাকাইচে (Great Knot), বালুবেলার চা পাখি, বড় টিটি জিরিয়া বা বালু বাটান (Greater Sandplover), ডোরালেজ জৌরালি (Bar-tailed godwit) এবং মাঝারি গাঙচিলের (Common tern) দেখা পেলাম। এছাড়াও আরও যেসব পাখি দেখলাম সেগুলো হল- বাবুই বাটান (Little Pratincole), বামন চা পাখি বা চড়ুই চা (Little Stint), ছোট টিটি জিরিয়া ও জিরিয়া (Kentish Plover)।

সবাই যখন বিশেষ ধরনের পাখিটি খুঁজতে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি তখন হঠাৎ আফজালের সংকেত পেয়ে পা টিপে টিপে ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বুঝতে আর বাকি রইল না ও কেন সংকেত দিয়েছে। বাইনোকুলারে চোখ রেখে দ্রুত ওর নির্দেশিত স্থানে তাকাতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। স্পষ্ট দেখলাম চামচের মতো চ্যাপ্টা ঠোঁটের অতি চঞ্চল পাখিটি কাদায় ঠোঁট চালাচ্ছে।

বাইনোকুলার থেকে দ্রুত চোখ ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে রাখলাম। ৬০০ মিলি লেন্সে বৈচিত্র্যপূর্ণ ঠোঁটের পাখিটির ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে এক মুহূর্ত দেরি করলাম না। অন্য একটি ক্যামেরা দিয়ে ওর একটি নাতিদীর্ঘ ভিডিও ক্লিপও শুট করলাম। কিন্তু মাত্র মিনিটখানেক সময় দিয়ে চঞ্চল পাখিটি দ্রুত উড়ে গেল। আর খুঁজে পেলাম না। কাজেই কাছ থেকে ওর ছবি তুলতে পারলাম না। এরপরও প্রায় ঘণ্টাখানেক ওকে খুঁজলাম। এসময় আরও দুটি লাইফার, যেমন- ঠোঁটমোটা চা পাখি (Broad-billed Sandpiper) ও গুলিন্দাঠোঁটি চা পাখির (Curlew Sandpiper) দেখা পেলাম।

দুপুরের আহার চরের মধ্যেই সারতে হল। ধীরে ধীরে জোয়ারের পানিতে চরটি ডুবতে শুরু করল এবং একসময় এর তিন-চতুর্থাংশ ডুবে গেল। আমরা বাধ্য হলাম স্পিডবোট চালু করতে। ফিরতি পথে অন্যান্য চেনাজানা পাখির সঙ্গে কালোমাথা কাস্তেচরা (Black-headed
Ibis), সাদা বা বড়ঠোঁটি গাংচিল (Common gull-billed Tern), বড় বাটান (Grey Plover), সবুজ চা পাখি (Green
Sandpiper) এবং আরেকটি লাইফার সরুঠোঁটি গঙ্গাকৈতরের (Slender-billed gull) দেখা পেলাম। বহুদিন পর প্রায় ১০ প্রজাতির নতুন পাখির ছবি তুলতে পেরে মনটা আনন্দে ভরে ওঠল।

এতসব পাখির কথা বললাম, অথচ যে বিশেষ পাখিটির খোঁজে সোনাদিয়া গেলাম তার সম্পর্কেই কিছু বলা হল না। বহুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া চামচের মতো ঠোঁটের ছোট আকারের মায়াবি পাখিটির নাম চামচঠোঁটি চা পাখি। অনেকে কোদালঠোঁটি চা পাখিও বলে। ইংরেজি নাম স্পুন-বিলড সেন্ডপাইপার (Spoon-billed Sandpipper)। স্কোলোপ্যাসিডি (Scolopacidae) গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Calidris pygmaea (ক্যালিড্রিস পিগমিয়া)। এটি এদেশের অতি বিরল এক পরিযায়ী জলচর পাখি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন এই প্রজাতিটির মাত্র ২২৮ জোড়া প্রাপ্তবয়স্ক পাখি বেঁচে আছে বলে জানা যায়। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চল অর্থাৎ সাইবেরিয়ার আবাসিক পাখিটি শীতে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিযায়ী হয়।

চামচঠুঁটো চা পাখির দেহের দৈর্ঘ্য ১৪-১৬ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৯ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক প্রজননহীন পাখির দেহের উপরটা ফ্যাকাশে বাদামি-ধূসর। কপাল, ভ্রু-রেখা ও দেহের নিচটা সাদা।

ওড়ার সময় ডানার সাদা ডোরা এবং লেজের পাশ ও কোমরের সাদা পালক চোখে পড়ে। কিন্তু প্রজননকালে মাথা, ঘাড়, দেহের উপরিভাগ ও বুক সোনালির আভাযুক্ত লালচে রং ধারণ করে। দেহের নিচটা থাকে সাদা। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কালো চঞ্চুটি সামনে থেকে চামচের মতো ও পাশ থেকে পুরু দেখায়। চোখের মণি কালচে-বাদামি। পা, আঙুল ও পায়ের পাতা কালো। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির কালচে পিঠের পাড় থাকে পীতাভ।
এদেশে শীতে এরা চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় কাদাচর, দ্বীপাঞ্চল ও কিছুটা লোনাজলের উপদ্বীপে একাকী বা ছোট দলে বিচরণ করে। অন্যান্য জলজ পাখির মিশ্র দলেও দেখা যায়। ভাটার সময় অল্প পানিতে হেঁটে হেঁটে নরম কাদায় চঞ্চু ঢুকিয়ে বিভিন্ন ধরনের অমেরুদণ্ডী প্রাণী খুঁজে খায়। ‘প্রিপ-প্রিপ-প্রিপ...’ বা ‘হুইট-হুইট-হুইট...’ শব্দে ডাকে।

জুলাই থেকে আগস্ট প্রজননকাল। এরা সারাজীবনের জন্য জোড় বাঁধে। বছরের পর বছর একই জায়গায় ডিম-ছানা তোলে। সাইবেরিয়ার চুকোৎকা উপদ্বীপ ও কামচাটকা উপকূলের কাছাকাছি মাটিতে সামান্য গর্ত করে শেওলা, ঘাস ও খাটো উইলো পাতা দিয়ে ছোট্ট বাসা গড়ে। স্ত্রী তাতে ৪টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। সচরাচর পুরুষ দিনে ও স্ত্রী রাতে ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১৯-২৩ দিনে। এরা ৬-৭ বছর বাঁচতে পারে।
চামচঠুঁটো চা পাখির মূল আবাস এলাকা সাইবেরিয়ায় এদের প্রজননভূমি হ্রাস পাওয়ায় এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, যেখানে এরা পুরো শীতকালটা কাটায় সেখানকার, প্লাবনভূমি কমে যাওয়ায় দিনে দিনে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে এরা শীতে আমাদের দেশের দমার চর ও সোনাদিয়ায় আসে।

কিন্তু দিনে দিনে এসব এলাকার পরিবেশের যে অবনতি ঘটছে তাতে এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে পারছি না। কালাদিয়া চরে প্লাস্টিক ও স্টাইরোফোমের উপস্থিতি, জেলেদের অতিরিক্ত আনাগোনা এবং চরের অতি নিকটে পণ্যবাহী জাহাজের উপস্থিতি এদের বেঁচে থাকার ওপর কিছুটা হুমকি বলেই মনে করি। কারণ গতবারের তুলনায় এবার এখানে বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পাখির সংখ্যা বেশ কম ছিল।
পুরো চরে এবার একটিমাত্র চামচঠোঁট চা পাখি দেখলাম। কাজেই এখনও যদি আমরা সোনাদিয়ার পরিবেশ রক্ষা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা না করি অচিরেই এই মহাবিপন্ন চামচঠোঁটি চা পাখিসহ আরও অনেক জলচর পাখি হারাব। আর এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০-২০ বছরে এরা পৃথিবীকে গুডবাই জানাবে।

লেখক : বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ
Share To:

Sobkhabor24x7

Post A Comment:

0 comments so far,add yours