সবখবর প্রতিবেদক।। বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দিনের শুরুতে ভোরে একবার এবং রাতে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস এবং আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে মিয়ানমারের ইয়ানাংইয়াং (Yenangyaung) অঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই কম্পনের ঠিক ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে একই এলাকায় ৫.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী 'আফটার শক' বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়।
ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মিয়ানমারের এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপ থেকে আনুমানিক ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
রাতেন এই কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সাতক্ষীরাসহ দেশের প্রায় অধিকাংশ অঞ্চলে বহুতল ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্কিত মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
এদিকে মিয়ানমারের এই জোড়া ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে, আজ ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার লাঙ্গলঝাড়ায় অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.১। সাতক্ষীরার এই কেন্দ্রস্থলটি মহেশখালী দ্বীপ থেকে আকাশপথে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
একদিনের ব্যবধানে দেশের পশ্চিম ও পূর্ব-উভয় প্রান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে আসা এই ঘনঘন কম্পন বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের মাঝারি মাত্রার ঘনঘন কম্পন কোনো বড় দুর্যোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের ওই অঞ্চলটি অত্যন্ত সক্রিয় একটি ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে বড় ঝাঁকুনি আসা অস্বাভাবিক নয়।
ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। আজকের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটিকে ‘মাঝারি থেকে শক্তিশালী’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর্যন্ত ছোট ছোট আরও কম্পন অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
মহেশখালী ও কক্সবাজার উপকূলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং এর তীব্রতা বেশ ভালোভাবেই বোঝা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যারা জরাজীর্ণ বা ফাটল ধরা ভবনে বসবাস করেন, তাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
