আজ সোমবার সকালে ঈদের ছুটি শেষে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের কর্মস্থলে ফেরার পথে বাঁশখালীর মনছুরিয়া এলাকায় এই নারকীয় দুর্ঘটনার শিকার হন মোহাম্মদ নোমান ইলাহি ও বীর বাহাদুর ইসলাম। তাদের অকাল মৃত্যুতে মহেশখালীর দুই পরিবারে এখন শুধু লাশের অপেক্ষা আর বুক ফাটা আর্তনাদ।
মহেশখালী পৌরসভার লাতুয়ার ডেইলের নোমান ইলাহি (৩৪) আর শাপলাপুরের বীর বাহাদুর (৩৫) দুজনেই ছিলেন তাদের পরিবারের বড় অবলম্বন। সকালে যখন তারা বাড়ির উঠোন ছাড়ছিলেন, হয়তো মা-বাবাকে বলে এসেছিলেন ‘পৌঁছে ফোন দেবো’। কিন্তু সেই ফোনের বদলে বাড়িতে পৌঁছেছে তাদের মৃত্যুর সংবাদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সিএনজিটির ভেতরটা তখন লাশের মগজ আর রক্তে একাকার। যে চোখগুলো আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখার কথা ছিল, সেই চোখগুলো নিথর হয়ে পড়ে আছে। ঘাতক ট্রাকের আঘাতে তাদের মাথার অংশটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, মাথার মগজের অবশিষ্টাংশ গাড়ির সিট ও লোহার পাতের সাথে লেপ্টে আছে। বীভৎস এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
নোমান ইলাহি অবিবাহিত ছিলেন, তার বাবা হাফেজ বশর হয়তো ছেলের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন। অন্যদিকে শাপলাপুরের বাহাদুর তার মায়ের একমাত্র ভরসা ছিলেন। আজ তাদের সেই সব স্বপ্ন বাঁশখালীর পিচঢালা পথে মগজ আর রক্তের সাথে মিশে গেছে।
প্রিয়জনের মগজমাখা দেহগুলো যখন স্থানীয়রা উদ্ধার করছিলেন, তখন পুরো এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যে তরুণরা হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জীবিকার তাগিদে, তাদের ফিরতে হচ্ছে সাদা কাফনে মোড়ানো ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহে।
বাঁশখালীর এই সড়ক আজ শুধু দুটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে দুটি পরিবারের বেঁচে থাকার আশা। দুমড়ে-মুুচড়ে যাওয়া গাড়িতে পড়ে থাকা সেই মগজগুলো যেন চিৎকার করে বলছে- সড়কে আর কত রক্ত ঝরলে থামবে এই মৃত্যুর মিছিল?
