নিহতরা হলেন- মহেশখালী পৌরসভার লাতুয়ার ডেইল এলাকার হাফেজ বশর ও কমরু আক্তার দম্পতির পুত্র মোহাম্মদ নোমান ইলাহি (৩৪) এবং উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জাহিদা ঘোনা এলাকার মরহুম জালাল আহমদের পুত্র বীর বাহাদুর ইসলাম (৩৫)। দুজনেই চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি বাঁশখালীর মনছুরিয়া বাজারের উত্তর পাশে গরুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মাছবোঝাই পিকআপের (মিনিট্রাক) সাথে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বীর বাহাদুর প্রাণ হারান এবং নোমান ইলাহিকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও মিনিট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত নোমান ও বাহাদুর দুজনেই ঈদের ছুটি কাটিয়ে আজ সকালেই নিজ নিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এই দুই যুবকের অকাল মৃত্যুতে মহেশখালীর লাতুয়ার ডেইল ও শাপলাপুরের জাহিদা ঘোনা এলাকায় শোকের গভীর মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। একই দুর্ঘটনায় মহেশখালীর দুই সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ।
