মিমতাহুল জান্নাত মহেশখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকার মৃত রশিদ উল্লাহর মেয়ে। বর্তমানে সে গোরকঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা হারানোর পর দিনমজুর ভাইয়ের সামান্য আয়ে যেখানে দুবেলা অন্নসংস্থানই কষ্টকর, সেখানে ফুটবল সরঞ্জাম কেনা ছিল মিমতাহুলের কাছে বিলাসিতা। তবে অদম্য এই কিশোরী দমে যাননি। ইতোমধ্যে সে গোরকঘাটা স্কুলের হয়ে মহেশখালী, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।
নিজের স্বপ্ন নিয়ে মিমতাহুল জানায়, সে বড় ফুটবলার হয়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াতে চায়। তার প্রিয় খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীর মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
প্রতিভাবান এই কিশোরীর সংগ্রামের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ফয়সাল আমিন। তিনি বলেন, “মিমতাহুলের প্রতিভা দেখে আমি মুগ্ধ। অর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধা ঝরে যেতে পারে না। তার স্বপ্নের পথে যেন কোনো বাধা না থাকে, সেজন্য তার ক্যারিয়ারের প্রয়োজনীয় সব খরচ আমি বহন করবো। মিমতাহুল যেন একদিন দেশের গৌরব হয়ে উঠতে পারে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”
মহেশখালী কলেজের প্রভাষক সানা উল্লাহ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “মিমতাহুলের মতো মেধাবীদের এগিয়ে নিতে ফয়সাল আমিনের মতো সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আজ থেকে মিমতাহুলের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন, যা মহেশখালীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।”
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক অভাব-অনটন আর সামাজিক প্রতিকূলতা জয় করে মিমতাহুল জান্নাত যে ফুটবল যুদ্ধের সূচনা করেছে, ফয়সাল আমিনের পৃষ্ঠপোষকতা তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। চরপাড়ার এই কিশোরী এখন কেবল তার পরিবারের নয়, বরং পুরো মহেশখালীবাসীর স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
