বার্তা পরিবেশক ।। কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও বহু মামলার আসামি মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল (৫৬)। তার কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ১৯টি অবৈধ অস্ত্র ও ছয় শতাধিক গুলিসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল এ সন্ত্রাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে তিনি গত এক দশন ধরে নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এ ঘটনায় কুতুবদিয়া থানার এসআই গাজী মাইন উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেছে।

কুতুবদিয়া থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে -কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল পরান সিকদার পাড়া এলাকার জনৈক মৃত জাবেরের পুত্র মুকুল নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধ জগত ও অস্ত্রভান্ডারের তথ্য দেন।

কুতুবদিয়ার বিভিন্ন স্থানে তিনি ও তার বাহিনীর একাধিক অস্ত্র ও গুলি মজুদ রয়েছে মর্মে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পর গতকাল ১১ এপ্রিল ভোর রাত আড়াইটারদিকে পুলিশ তাকে সাথে নিয়ে অভিযানে নামেন। তার দেওয়া তথ্য মতে কুতুবদিয়ার লেমশিখালী ইউনিয়নের দরবার ঘাট এলাকায় বেড়ী বাঁধের পার্শ্ববর্তী স্থানীয় জনৈক ডাঃ জিল্লুর রহমানের বাড়ির পূর্ব পাশে মাটি খুড়ে দুইটি দেশীয় তৈরি বন্দুক উদ্ধার করে। এ সময় স্থানীয় একাধিক সাক্ষীর উপস্থিতিতে এ সব অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ।

পরে তার অন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। একপর্যায়ে তার স্বিকারুক্তি মতে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়া (রোমাই পাড়া)’র ঝাউবন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এক পর্যায়ে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ তার দেখিয়ে দেওয়া তথ্য মতে ওই এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর থেকে আরও দুইটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় এসব অস্ত্র মকুল ও তার সহযোগীরা নানা অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠিত করার জন্য ব্যবহার করতেন।

সহযোগীদের মধ্যে দলীয় ডাকাত -গুরাকালু, এরফান মাঝি, মলই দিদার, রমিজ, ইসহাক মেম্বার ও সালেহ আহমদের নাম জানিয়েছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় -এ মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল গত ১০-১৫ বছর আগে এক সময় এম আর এর চাকরি করলেও গত এক দশকের বেশী সময় ধরে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জলদস্যুতা, ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজি করে আসছিল।

বিগত সময় ১৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় শত রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। এদিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নানা তথ্য দিয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ। তিনি ও তার সহযোগীরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতি, সমুদ্রে দস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতো। স্থানীয় ভাবে তিনি একজন অস্ত্রবাজ, জলদস্যু ও ডাকাত সরদার হিসেবে জনশ্রুতি রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ।

এদিকে তার গ্রেফতারের সংবাদে উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার শান্তিপ্রিয় লোকজন স্বস্তির শ্বাস নিয়েছে এবং অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলে থানা সূত্র জানায়।

ছবিঃ মহেশখালীতে জেলেদের হাতে আটক হওয়া জলদস্যু সাদ্দাম হোসেন।
আজিজ সিকদার/এম.বশির উল্লাহ।।
কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের পার্শ্ববর্তী সাগরে মাছ ধরার সময় জেলেদের ট্রলারে হানাদিয়েছে একদল জলদস্যু। এ সময় জেলেরা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে দস্যুদের মোকাবিলা করে। এক পর্যায়ে জেলেদের হাতে আটক হয় এক জলদস্যু। শনিবার (৬ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জেলেরা জানায়, উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা গ্রামের জনৈক মোহাম্মদ বেলালের  মালিকাধিন এফবি দিলশাদ নামের ট্রলারটি গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করে কুলে ফিরছিল। রাত ৯টার দিকে ট্রলারটি মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি আসলে একদল জলদস্যু একটি ট্রলার নিয়ে এ জেলেট্রলারে হানা দেয়। এ সময় জেলেরা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে দস্যুদের প্রতিরোধ করে। জেলেদের প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা টিকতে না পেরে পিছু হটে পলিয়ে যায়। এ সময় জেলেরা এক জলদস্যুকে হাতেনাতে আটক করে।

আটক হওয়া জলদস্যুর নাম সাদ্দাম হোসেন (২৮)। সে ঘটিভাঙ্গা এলাকার আবুল কাসেমের পুত্র।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুতুবজোমের ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন জানান -খবর পেয়ে মহেশখালী থানার একদল পুলিশ ঘটিভাঙ্গা গিয়ে ওই দস্যুকে থানায় নিয়ে আসে।

নিচের ভিড়িওতে ক্লিক করে প্রধানমন্ত্রী ও কক্সবাজারের ৪ এমপি প্রার্থী সম্পূর্ণ বক্তব্য দেখুন।

হারুনুর রশিদ/সৈয়দ মোজতবা আলী ।। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ সিরাজুল মোস্তফা বলেছেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে আশেক উল্লাহ রফিক’র মত একজন পরিচ্ছন্ন নেতাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে এই দুই উপজেলার ৫ লাখ মানুষকে ধন্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত ৫ বছরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় যে অভুতপুর্ব উন্নয়ন হয়েছে তা দৃষ্ঠান্ত হয়ে থাকবে। তাই এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মহেশখালী বঙ্গবন্ধু সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গনে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এ কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, এখন মহেশখালীর আলোয় আলোখিত হবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলাকে ঘিরে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন তা বাস্তবায়ন হলে এই দুইটি উপজেলা সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আর কোন দলাদলি নয়, নৌকা প্রতীক শেখ হাসিনার। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, ইতোমধ্যে লবণ আমদানি বন্ধ করে লবণের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করেছি। মহেশখালীতে উৎপাদিত মিষ্টিপান বিদেশে রপ্তানী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ায় মিষ্টিপানের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত হয়েছে। কয়লা বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপুরণ বৃদ্ধি করতে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষতিপুরণের টাকা বৃদ্ধি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো দেশের জনগনের ক্ষতি হয় এমন কাজ করেন না। তাই তিনিই এখন দেশের খেটে-খাওয়া মানুষের এক মাত্র আশ্রয় স্থল। তিনি আরো বলেন, দেশ এখন দুইভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ দেশেকে লুটপাটের স্বর্গ রাজ্য বানাতে চায় আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন তরান্বিত করতে চান। ইতোমধ্যে মহেশখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন জোট সরকারের সময়ে শুধু খাম্বা দেওয়া হয়েছিল বিদ্যুৎ দিতে পারে নি। তাই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করুন আগামিতে আরো উন্নয়ন হবে।